Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় (Baruipur Rape Case) এবার আরও তৎপর পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে পুলিশি অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও তিনজনকে। পুলিশের অভিযোগ, মূল অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে তাঁদেরও যোগ রয়েছে। এর আগে রবিবার সন্ধ্যায়ই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সোমবার এই পাঁচজন ধৃতদের বারুইপুর আদালতে তোলা হবে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে তদন্তকারী সংস্থা।
ঘটনার তদন্তে অ্যাডিশনাল এসপি পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছিল। তাদের উদ্যোগেই গতকাল মাঝরাতে পুলিশি অভিযান চালানো হয়। বারুইপুর থানার পুলিশের পাশাপাশি সেই অভিযানে অংশ নেন এসটিএফের সদস্যরাও। রবিবার রাতেই ধৃতদের দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
বারুইপুরের ঘটনায় (Baruipur Rape Case) ইতিমধ্যেই তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। প্রথমটি নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে। এছাড়া সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশের উপর হামলা, অবরোধ ও ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা এবং এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও একটি মামলা রুজু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য, বারুইপুর ধর্ষণ ঘটনার (Baruipur Rape Case) খবর পাওয়ার পর রবিবার নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। দোষীদের ফাঁসির দাবিতে সরব পরিবারকে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে ভবানীভবনেও ডেকে পাঠানো হয়েছে। সেইদিন সন্ধ্যায় মৃতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পরে রাতে ভিডিও কলে নির্যাতিতার মায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি আজ দুপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে যেতে পারেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।
তবে বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে বলে দাবি পুলিশের। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে নজর এখন তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


