Aaj India Desk, কলকাতা : নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। এর মধ্যেই গত রাত পর্যন্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।
কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?
সূত্র অনুসারে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ও বেশ কয়েকশো ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গত রাতে মোট ৮০৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে গত ৪৮ ঘণ্টায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২,৩০০ জন।
কেনো এতো বেশি সংখ্যক গ্রেপ্তার ?
আগামীকাল, ২৯ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। দ্বিতীয় দফার ভোটের কেন্দ্রগুলির মধ্যে বেশিরভাগই সংবেদনশীল। ফলে নির্বাচন কমিশন এলাকা-ভিত্তিক নজরদারি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) অভিযান বাড়িয়েছে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন এবং প্রথম দফার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। মূলত দাগি আসামি, হিস্ট্রি শিটার, মাসলম্যান এবং যাদের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানো বা অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তাদেরকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের অশান্তি বা ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। গত কয়েকদিনে অবৈধ সম্পত্তি ও নগদ টাকা জব্দের ঘটনাও বেড়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ৫১০ কোটি টাকার বেশি অবৈধ নগদ টাকা ও মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলির সাহায্যে ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী সময়ে অতীতে বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও ভোটার ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। এবার কমিশন প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টও প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্টকে আইন অনুযায়ী করার অনুমতি দিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া শুধু ‘ট্রাবলমেকার’ বলে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলেও জানিয়েছে আদালত।


