Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : দ্বিতীয় দফার ভোটের মাত্র ২৪ ঘণ্টা বাকি। তার আগেই ফের বিতর্কে জড়িয়েছেন তৃনমূল কংগ্রেসের রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের প্রার্থী অদিতি মুন্সি (Aditi Munsi)। মঙ্গলবার বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ায় নির্বাচনের প্রাক্কালে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে।
কী নিয়ে অভিযোগ ?
বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দাবি, মনোনয়নপত্রের হলফনামায় অদিতি মুন্সি (Aditi Munsi) তাঁর নিজের ও তাঁর স্বামীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সঠিক বিবরণ দেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতা ও আশপাশে তাঁদের একাধিক জমি রয়েছে, যার ক্রয়মূল্য ও উৎস হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ২৫ মার্চ একটি বড় অঙ্কের জমি বিক্রির লেনদেন হয়েছে, কিন্তু সেই অর্থের উৎস বা ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্যও নথিতে নেই। তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ‘BC Global’ নামে একটি সংস্থার নামও সামনে আনেন। তাঁর প্রশ্ন, জমি কেনাবেচার সঙ্গে এই সংস্থার কী সম্পর্ক এবং এই বিপুল অঙ্কের অর্থ কোথায় গেল। তাঁর বক্তব্য, “একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বিষয়টি পুলিশ, আয়কর দফতর বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে আনা আমার দায়িত্ব।”
নীরব তৃনমূল প্রার্থী
এই অভিযোগের পরও অদিতি মুন্সি বা দেবরাজ চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে তৃণমূলের একাংশের দাবি, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের অভিযোগ তুলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুরে তৃনমূল প্রার্থী হিসেবে অদিতি মুন্সি (Aditi Munsi) প্রায় ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে এই আসনটি বিজেপির কাছে ‘দুর্বল কেন্দ্র’ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সম্পত্তির হিসাব গোপন, ‘বিসি গ্লোবাল’ কোম্পানির নাম উঠে আসা এবং নমিনেশন অ্যাফিডেভিটে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে বিজেপি চাইছে ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করতে এবং নির্বাচন কমিশনকে চাপ দিতে। এর ফলে যদি তদন্ত শুরু হয় বা ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে তৃণমূলের ভোট কিছুটা হলেও ছিন্নভিন্ন হতে পারে। বিজেপির লক্ষ্য শুধু এই একটি আসন নয়, রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া, যাতে শেষ মুহূর্তে অনিশ্চিত ভোটাররা তাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
ভোটের ঠিক আগে এই ‘সম্পত্তি বিতর্ক’ রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের ভোটারদের উপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সারা উত্তর ২৪ পরগনা জুড়েই জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


