Aaj lndia Desk,কলকাতা: পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার মৃতের বাড়িতে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক পদক্ষেপ, চাকরি এবং আর্থিক সাহায্যের একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দেন, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
‘পুলিশের গাফিলতি রয়েছে’, কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ
মৃতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, থানার লকআপ বা পুলিশি হেফাজতেই যে মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে তাঁর কোনও সংশয় নেই। তাঁর বক্তব্য, যেহেতু ওই ব্যক্তি পুলিশের কাস্টডিতে ছিলেন, তাই এই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এরপরই সংশ্লিষ্ট থানার আইসি-কে ক্লোজ এবং তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৃতের স্ত্রীকে সরকারি চাকরির আশ্বাস
পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মৃতের স্ত্রীর জন্য সরকারি চাকরির ব্যবস্থার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। হোম মিনিস্টারের কোটায় ‘অ্যাটেনডেন্ট’ পদে তাঁকে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শোকের সময় কাটিয়ে ওই মহিলা স্থানীয় থানার সঙ্গে অ্যাটাচ হয়ে কাজ করবেন। ১২ মাস পূর্ণ হলে তাঁকে গ্রুপ-ডি পদে স্থায়ী করা হবে।
রিলিফ ফান্ড থেকে ১০ লক্ষ টাকা
শুধু চাকরিই নয়, পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যতের কথাও মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ড থেকে ১০ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে মৃতের স্ত্রীকে। ওই টাকা সন্তানদের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অর্থ তাঁদের পড়াশোনার কাজে ব্যবহার করার কথাও বলেছেন তিনি।
জেলাশাসকের নেতৃত্বে ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল ইনকোয়ারি
ঘটনার তদন্ত যাতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে হয়, তার জন্য ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল ইনকোয়ারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাধারণত এসডিও স্তরে এই ধরনের তদন্ত হয়ে থাকে। কিন্তু ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবার উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হোম সেক্রেটারি ওই দিন বিকেলের মধ্যেই এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশ জারি করবেন বলেও জানান তিনি।
পরিবারের আস্থার কথা উল্লেখ মুখ্যমন্ত্রীর
মৃতের পরিবারের ভূমিকারও প্রশংসা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, পরিবার এই মৃত্যুর ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার সুযোগ দেয়নি এবং সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের উপর আস্থা রেখেছে। এই আস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময় থেকে আগের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমল পর্যন্ত এমন নজির খুব কম, যেখানে প্রশাসনের প্রধান নিজে ডিজিপিকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দলের কোনও নিহত কর্মীর বাড়িতে গিয়ে সরকারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
পোস্টমর্টেম রিপোর্টের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এবং ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল ইনকোয়ারির সুপারিশ সামনে আসার পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ার উপর ডিজিপি এবং হোম সেক্রেটারি ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখবেন বলেও জানান তিনি।


