32.1 C
Kolkata
Tuesday, July 7, 2026
spot_img

বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে যেতেই বিক্ষোভের শিকার! বিদ্রোহী তৃণমূলকে খোঁচা কালীঘাট শিবিরের!

Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মঙ্গলবার বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা নির্যাতিতার (Baruipur Rape Case) পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূলের ‘ঋতব্রত পন্থী’ শিবিরের একাধিক নেতা-নেত্রী। প্রতিনিধি দল এলাকায় পৌঁছতেই ‘চোর-চোর’, ‘গদ্দার’সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। পরে পুলিশের অনুমতি মেলার পর প্রতিনিধি দল পরিবারের সঙ্গে দেখা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার বিদ্রোহী শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করলো কালীঘাট শিবির।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এনডিএ-সমর্থিত ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূলের প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার বারুইপুরের সূর্যপুরে পৌঁছয়। দলে ছিলেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক শিউলি সাহা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁরা এলাকায় ঢুকতেই গ্রামবাসীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিউলি সাহা বলেন, “আমরা তো আলাদা। তোমরা এ ভাবে আমাদের বাধা দিতে পারো না। আমরাও অপরাধীদের শাস্তি চাই।”

বিক্ষোভের মুখে পড়েন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষও। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গদ্দার’ স্লোগান তোলেন স্থানীয়দের একাংশ। অভিযোগ ওঠে, ঘটনার তিন দিন পর তাঁর ঘটনাস্থলে পৌঁছনো নিয়ে। এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দার দাবি, “স্থানীয় সাংসদ এত দিন কোথায় ছিলেন? ঘটনার তিন দিন পর এখন এসে কী লাভ?” একই সঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সায়নী ঘোষের তৃনমূল থেকে NCPI তে যোগদানের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ।

বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা বিক্ষোভের মুখে পড়তেই কালীঘাট শিবিরের নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন। তাঁদের বক্তব্য, দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করায় মানুষ তার জবাব দিয়েছে। বর্ষীয়ান তৃনমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেন, “এতদিন পরে মনটা একটু শান্তি পেল। যারা মায়ের সঙ্গে বেইমানি করেছে, মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্ষমতা বদলের পর দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।”

বিদ্রোহীদের বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে নয়না বন্দোপাধ্যায়ও বলেন, “যদি দিদির ২০০টি আসন হত, তখন যদি তোমরা দল ছেড়ে যেতে তাহলেও না হয় বুঝতাম। কিন্তু ক্ষমতা যেতেই এই বেইমানি যে মানুষ মেনে নেয়নি তা মানুষের আচরণেই স্পষ্ট।”

বারুইপুরের ঘটনাকে (Baruipur Rape Case) কেন্দ্র করে কালীঘাট তৃনমূল ও ঋতব্রত-পন্থী তৃনমূলের সংঘাত আরও প্রকাশ্যে চলে এল। নির্যাতিতার বাড়িতে বিক্ষোভের ঘটনাকে হাতিয়ার করে উভয় পক্ষই একে অপরকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করেছে। ফলে এই ইস্যুতে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আগামী দিনেও জারি থাকবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন