Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে জোরকদমে পুরভোটের (Municipal Election) প্রস্তুতি শুরু করে দিল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে আজ থেকেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও আসন সংরক্ষণের কাজ দ্রুত এগোনো শুরু হয়েছে।
কবে শুরু হতে পারে পুরভোট?
সরকারি সূত্রের দাবি, সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে আগামী নভেম্বর মাস থেকেই পুরভোটের (Municipal Election) প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। কলকাতা পুরসভা-সহ একাধিক পুরসভার ভোট নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই হতে পারে। দিন কয়েক আগে হাওড়ার নিউ কালেক্টরেট ভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“প্রায় এক দশক ধরে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন না হওয়ায় নাগরিক পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছিল। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ দ্রুত শেষ করে এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া ও বালি পুরসভায় ভোট নেওয়া হবে।”
আগামী ৯ মাসের মধ্যে রাজ্যের মোট ১২৭টি পুরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে বা ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নতুন সরকারের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রশাসনিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ।
কোথায় কোথায় হবে নির্বাচন?
সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে হাওড়া পুরসভা এলাকায়। সেখানে প্রায় ১৩ বছর ধরে কোনও নির্বাচন হয়নি। এছাড়াও বালি পুরসভাতেও দ্রুত ভোট করানোর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে ভোট বাকি থাকা পুরসভাগুলির তালিকায় রয়েছে ডোমকল, দুর্গাপুর, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, নলহাটি, ধূপগুড়ি।
প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে কমিশনের শূন্যতা
পুরভোটের (Municipal Election) প্রস্তুতির মাঝেই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বর্তমান পরিস্থিতি। গত বছর প্রাক্তন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা পদ ছাড়ার পর এখনও নতুন কমিশনার নিয়োগ হয়নি। সম্প্রতি কমিশনের সচিব নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্যের মেয়াদবৃদ্ধিও বাতিল হয়েছে। এমনকি কমিশনে যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কোনও আধিকারিকও বর্তমানে নেই বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ডিলিমিটেশন ও নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই চাপ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, সদ্য জয় পাওয়া বিজেপি সরকার নাকি দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃনমূল পুরভোটের বিজয়ী হয়ে আত্মপ্রকাশ করবে তা নিয়ে রাজ্য জুড়েই চলছে চাপা উত্তেজনা। ক্রমাগত কাউন্সিলরদের ইস্তফা ও পুরসভার ভিতরেই তৃনমূল বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে তৃনমূলের ঘর ভাঙতে চলেছে বলেই ধারণা রাজ্যবাসীর। এবার পুরভোটের ফলাফলের দিকেই সকলের নজর।


