Aaj India Desk, কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhas Chandra Bose) নিয়ে ‘অবমাননাকর ও মানহানিকর’ মন্তব্যের জন্য সম্প্রতি বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্রনাথ রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন নেতাজির অনুগামীরা। এই বিতর্কের জেরেই অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নিয়ে ‘শাস্তি’ প্রদান করে রাজ্য সরকার। তবে সেই শাস্তি যথেষ্ট নয় বলে জানিয়ে এবার অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ দায়ের করল তৃণমূল কংগ্রেসের IT Cell। অভিযোগপত্রে অনন্ত মহারাজের পাশাপাশি তাঁর ‘অনুসারীদের’ বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের লিঙ্কও জমা দেওয়া হয়েছে।
কী অভিযোগ TMC IT Cell-এর?
লালবাজারের সাইবার পুলিশ স্টেশনের অফিসার-ইন-চার্জের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, অনন্ত মহারাজ ‘পরিকল্পিতভাবে’ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhas Chandra Bose) নিয়ে অবমাননাকর ও মানহানিকর মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেছেন। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই মন্তব্যগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘দেশবিরোধী মনোভাব’ এবং ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী ধারণা’ ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
১৫টি সোশ্যাল মিডিয়া লিঙ্ক
অভিযোগপত্রের সঙ্গে ফেসবুকে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যের ১৫টি লিঙ্ক সংযুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলির বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে অভিযোগকারী পক্ষ। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নেতাজির মতো জাতীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ‘অবমাননাকর, মানহানিকর বা বিকৃত’ মন্তব্য করা হলে তা দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
FIR করার আবেদন
অভিযোগটি ১৭৩ নম্বর ধারার অধীনে তথ্য হিসেবে গ্রহণ করে FIR নথিভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।
‘নেতাজির অপমান বরদাস্ত করবো না’
তৃণমূলের অফিসিয়াল পেজে অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, “নেতাজি (Netaji Subhas Chandra Bose) আমাদের গর্ব। তাঁকে নিয়ে কোনও অপমান বরদাস্ত করা হবে না।” একই পোস্টে অনন্ত মহারাজ এবং তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের কথাও জানানো হয়েছে।
নেতাজিকে নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এখন পুলিশের তদন্তে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলির প্রকৃত বক্তব্য এবং আইনি ভিত্তি কতটা রয়েছে, সেদিকেই নজর থাকবে।


