Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : দেশজুড়ে ফের বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম (Petrol Price Hike)। মঙ্গলবার তেল বিপণন সংস্থাগুলি জ্বালানির দামে লিটারপিছু প্রায় ৯০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। গত শুক্রবার ৩ টাকা দাম বাড়ানোর পর মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার দাম বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চার মহানগরীর নতুন দাম
দিল্লি
- পেট্রোল: ₹৯৮.৬৪ প্রতি লিটার (+₹০.৮৭)
- ডিজেল: ₹৯১.৫৮ প্রতি লিটার (+₹০.৯১)
মুম্বই
- পেট্রোল: ₹১০৭.৫৯ প্রতি লিটার (+₹০.৯১)
- ডিজেল: ₹৯৪.০৮ প্রতি লিটার (+₹০.৯৪)
কলকাতা
- পেট্রোল: ₹১০৯.৭০ প্রতি লিটার (+₹০.৯৬)
- ডিজেল: ₹৯৬.০৭ প্রতি লিটার (+₹০.৯৪)
চেন্নাই
- পেট্রোল: ₹১০৪.৪৯ প্রতি লিটার (+₹০.৮২)
- ডিজেল: ₹৯৬.১১ প্রতি লিটার (+₹০.৮৬)
চার মহানগরের মধ্যে কলকাতাতেই পেট্রোলের দামে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। এখানে পেট্রোলের দাম এক ধাক্কায় বেড়েছে ৯৬ পয়সা।
কেনো ফের বাড়ল দাম ?
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম (Petrol Price Hike) দ্রুত বাড়ছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপিছু ১১১ ডলারের উপরে পৌঁছয়। একইসঙ্গে WTI ক্রুডও ১০৭ ডলার ছাড়িয়েছে। ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি বাজারে।
এর পাশাপাশি রাশিয়ার সমুদ্রপথে তেল বাণিজ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়াকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে তুলনামূলক কম দামে রাশিয়ার তেল আমদানি করে ভারত কিছুটা খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল। তবে সেই সুবিধা কমে যাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির উপর চাপ বেড়েছে।
বাড়বে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ?
দেশে ফের পেট্রোল ও ডিজেলের দাম (Petrol Price Hike) বাড়ার পর চিন্তায় মাথায় হাত সাধারণ মানুষের। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে যাতায়াতের খরচের উপর, আর তার ফলেই ধীরে ধীরে বাড়তে পারে সবজি, ফল, চাল, ডাল, দুধ, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা জিনিসের দাম।
শুধু খাবারের জিনিস নয়, অনলাইন ডেলিভারি, ক্যাব পরিষেবা, বাসভাড়া কিংবা পণ্য পরিবহণ নির্ভর ছোট ব্যবসাগুলিও চাপে পড়তে পারে। খরচ সামলাতে গ্রাহকদের উপর বাড়তি চার্জও চাপাতে পারে সেই ব্যবসাগুলি। মধ্যবিত্ত মানুষের পকেটের চাপ কমাতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় সেটাই এখন দেখার।


