29 C
Kolkata
Monday, May 18, 2026
spot_img

লাহোরের মাটিতে কৃষ্ণনগর ! ভারতের দিকে বন্ধুত্বের হাত পাকের ?

Aaj India Desk, লাহোর : পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোর (Lahore)। সেই লাহোরের মাটিতেই এবার দেখা যাচ্ছে কৃষ্ণনগর থেকে শুরু করে জৈন মন্দির চক! অবাক লাগলেও দেশভাগের প্রায় ৭৯ বছর পরে লাহোরের ইসলামিকরণ করা বহু রাস্তা, মোড় ও এলাকার নাম বদলে আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে হিন্দু, শিখ ও ঔপনিবেশিক আমলের নাম। গত দুই মাসে এখানের অন্তত নয়টি স্থানের নাম পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

কোন এলাকা কি নামে পরিচিত ? 

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লাহোরের (Lahore) ইসলামপুরা আবার কৃষ্ণনগর, বাবরি মসজিদ চক আবার জৈন মন্দির চক নামে পরিচিত হয়েছে। একইভাবে সুন্নতনগর নাম থেকে এলাকাটি ফিরে গেছে পুরোনো সন্তনগর নামে। মুস্তাফাবাদ হয়েছে ধরমপুরা এবং লরেন্স গার্ডেন্স আবার পুরনো নামেই পরিচিত হতে শুরু করেছে। এছাড়া মওলানা জাফর আলি খান চক এখন লক্ষ্মী চক, স্যার আগা খান চক আবার ডেভিস রোড এবং ফাতিমা জিন্নাহ রোড ফের কুইন্স রোড নামে উল্লেখ করা হচ্ছে।

কেনো পুরনো নাম ফিরিয়ে আনছে পাক ? 

এই নাম পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে “লাহোর অথরিটি ফর হেরিটেজ রিভাইভাল” বা LAHR প্রকল্প। ২৯২৫ সালে প্রায় ৫০ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপির এই প্রকল্প শুরু করেন মারিয়াম নউয়াজ। এই প্রকল্পে শহরের মুসলিম, শিখ, হিন্দু, খ্রিস্টান, মুঘল ও ঔপনিবেশিক ইতিহাসকে একসঙ্গে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় পুরনো গির্জা, গুরুদ্বার, মন্দির ও শিখ আমলের বিভিন্ন স্থাপত্য পুনর্নির্মাণও করা হচ্ছে। বর্তমানে লাহোরে (Lahore) অন্তত ১১৫টি ঐতিহ্যবাহী ভবন চিহ্নিত হয়েছে। তার মধ্যে ৭৫টি ঔপনিবেশিক যুগের স্থাপনার মধ্যে ৪৮টির পুনর্গঠনের কাজ চলছে। লাহোর ফোর্টের শিখ গ্যালারিতে রাজকুমারী বাম্বা সাদারল্যান্ডের প্রতিকৃতি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। খড়ক সিং হাভেলিও তার পুরনো নামেই পুনরায় তৈরি করা হচ্ছে।

তবে এই নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত থেকে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। এই প্রকল্প পাকিস্তানের কূটনৈতিক চাল বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। শুধু ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নয়, বরং এটি ভারতের প্রতি একটি ‘সফট সিগন্যাল’ বলে মনে করছেন তারা। দেশভাগের আগে লাহোর ছিল অবিভক্ত ভারতের অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যার সঙ্গে ভারতের বহু মানুষের আবেগ এখনও জড়িয়ে রয়েছে। কৃষ্ণনগর, লক্ষ্মী চক বা জৈন মন্দির চকের মতো নাম ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে ভারতকেই খুশি করার চেষ্টা করছে নাকি তাদের দিকে সরাসরি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পাক? এই নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এখনও সরকারিভাবে এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে আগামী দিনে এই পদক্ষেপ ভারত পাক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে বলেই আশাবাদী অধিকাংশ।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন