Aaj India Desk, কলকাতা : রবীন্দ্র সরোবরের জল পরিশুদ্ধ করে গ্লাসে পান করানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আর সেই ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই ওই সরোবরেই ছটপুজো চালু করার ভাবনা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। পরিবেশ রক্ষার প্রশ্ন তুলে মন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীরা।(Rabindra Sarobar Chhath Puja)
দু’মাসেই অবস্থান বদল?
মঙ্গলবার অগ্নিমিত্রা পাল জানান, পরিবেশের ক্ষতি না করে রবীন্দ্র সরোবরে ফের ছটপুজোর (Rabindra Sarobar Chhath Puja) অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। তাঁর বক্তব্য, এলাকার বাসিন্দাদের ধর্মীয় আবেগের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগের পরিকল্পনা। মন্ত্রীর কথায়, “আগে তো রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেওয়া হত না। আমরা এবার ভাবছি করতে দেব। কেন করতে দেব না? সেখানকার মানুষগুলো কোথায় ছটপুজো করবেন?”
কেন বন্ধ হয়েছিল ছটপুজো?
উল্লেখ্য, রবীন্দ্র সরোবরের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র এবং জলদূষণের আশঙ্কার কারণে সেখানে ছটপুজো (Rabindra Sarobar Chhath Puja) বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় পরিবেশ আদালত (NGT)। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশও এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই নির্দেশ মেনেই পূর্বতন সরকার সরোবরে ছটপুজো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতি বছর ছটপুজোর সময় সরোবরের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হত। বাঁশ ও টিনের ব্যারিকেডের পাশাপাশি মোতায়েন থাকত পুলিশ বাহিনী। পুজোর সামগ্রী নিয়ে যানবাহন চলাচলেও কড়াকড়ি করা হত।
পরিবেশ রক্ষার আশ্বাস মন্ত্রীর
অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, ছটপুজো হলেও সরোবরের পরিবেশের কোনও ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না। প্রশাসনের কর্মীদের পাশাপাশি পুজো কমিটি ও পরিবারের স্বেচ্ছাসেবকদেরও দায়িত্ব দেওয়া হবে। পুজো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত সামগ্রী সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তাঁর দাবি, ছটপুজোর সময় জলে বিশেষ কিছু ফেলা হয় না। তাই পরিবেশের সুরক্ষা বজায় রেখেই কোনও পথ বের করা সম্ভব।
অগ্নিমিত্রাকে কটাক্ষ বিরোধীদের
এই ঘোষণাকে ঘিরেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। অগ্নিমিত্রার আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করা হচ্ছে, যে জল পরিশুদ্ধ করে গ্লাসে পান করানোর পরিকল্পনা রয়েছে, সেই জলেই এবার ছটপুজোর আয়োজনের কথা ভাবা হচ্ছে কীভাবে? বিরোধীদের বক্তব্য, ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি পরিবেশ আদালতের নির্দেশ এবং রবীন্দ্র সরোবরের বাস্তুতন্ত্র রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো ফেরানোর ভাবনা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও পরিবেশগত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, জাতীয় পরিবেশ আদালতের সঙ্গে আলোচনার পর রাজ্য সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়।


