Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সঙ্গে যুক্ত আন্দোলনকারীরা বিদেশ থেকে আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের সঙ্গে ভারত-বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh)। তাঁর দাবি, দেশের ভিতরে ও বাইরে থাকা একাধিক সংগঠন এবং বিদেশি অর্থে পরিচালিত এনজিও এই আন্দোলনের পিছনে টাকা ঢালছে। এর নেপথ্যে ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এই অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জিতেন্দ্র সিং বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি অননুমোদিত বিদেশি সূত্র থেকে অর্থ পাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে অভিজিৎ দীপকে এবং আশুতোষ রানকার নামও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁদের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। জিতেন্দ্র সিংয়ের কথায়, “এই ব্যক্তিরা যে অননুমোদিত সূত্র থেকে টাকা পাচ্ছেন, তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। দেশের ভিতরে এবং বাইরে থাকা ভারত-বিরোধী এনজিও ও সংগঠনগুলি তাঁদের আর্থিক সাহায্য করছে। বিদেশি অর্থে চলা এনজিও, ডিপ স্টেটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং ভারত-বিরোধী শক্তি একসঙ্গে মিলে এই প্রচার চালানোর চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “অভিজিৎ দীপকে আমেরিকায় থাকা অনুদানকারীদের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, আশুতোষ রাঙ্কা পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে আসতেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় CJP। দলের দাবি, কোনও দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন ভিত্তিহীন মন্তব্য কাম্য নয়। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করে জিতেন্দ্র সিংকে আক্রমণ করে দলটি।
CJP-র পোস্টে লেখা হয়, “এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যা খুশি বলতে পারেন, অথচ তার জন্য তাঁকে কোনও জবাবদিহি করতে হয় না। এই কারণেই আজ দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তিদের কথারও আর কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।” দলের সঙ্গে যুক্ত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ওঠা বিদেশি অর্থসাহায্যের অভিযোগও কার্যত খারিজ করে দিয়েছে CJP। তাদের বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্যের পিছনে কোনও নির্ভরযোগ্য ভিত্তি রয়েছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর নতুন নয়। এবার সেই বিতর্কেই বিজেপিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে। বুধবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিদেশি সূত্র থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারের কাছে যদি এই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকে, তা হলে এখনও কেন সেগুলি প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না?
এখানেই থেমে থাকেননি প্রিয়াঙ্ক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার আহ্বান জানান তিনি। সেই বিতর্কে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতকে সঞ্চালকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও দেন কর্নাটকের মন্ত্রী।
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং দেশের দুই গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB) ও রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (RAW)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে বলেন, “বিজেপি যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ দাবি করে যে কংগ্রেস বিদেশি সংস্থাগুলির কাছ থেকে টাকা পাচ্ছে, অথচ তার সমর্থনে একটি কাগজও দেখাতে না পারে, তা হলে অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং RAW-এর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। IB কী করছে? RAW-ই বা কী করছে? কোন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ করা হচ্ছে?”
সব মিলিয়ে বিদেশি অর্থসাহায্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিজেপি, কংগ্রেস এবং CJP-র মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে আন্দোলনকারীদের বিদেশি অর্থ পাওয়ার অভিযোগ তুলছে কেন্দ্র, অন্যদিকে সেই অভিযোগের প্রমাণ প্রকাশ্যে আনার দাবি জানাচ্ছে বিরোধী শিবির।


