Aaj lndia Desk,কলকাতা: ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া সারা বছর ধরে প্রস্তুতি নেয়। আর সেই পরীক্ষা নিট (NEET 2026) ঘিরেই আবারও উঠছে প্রশ্ন।পরীক্ষার পর বহু পরীক্ষার্থী দাবি।আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া গিয়েছে আগে থেকেই ঘুরে বেড়ানো একটি প্র্যাকটিস প্রশ্নপত্র -এর।
আর সেই অভিযোগ সামনে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক তাহলে কি পরীক্ষার আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল প্রশ্ন?সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে এই তথ্য। কেউ বলছেন এটা নিছক কাকতালীয় নয়, আবার কেউ পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই যদি সত্যিই প্রশ্নফাঁস হয়ে থাকে, তাহলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশিকা পরীক্ষার স্বচ্ছতা কোথায় দাঁড়িয়ে?আর যাঁরা দিনরাত এক করে সৎভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যতের দায়িত্বই বা নেবে কে?
বিতর্কের সূত্রপাত রাজস্থানের শিকর জেলা থেকে। অভিযোগ, পরীক্ষার আগে বহু পড়ুয়ার হাতে ঘুরছিল একটি প্র্যাকটিস প্রশ্নপত্র। আর নিট পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, সেই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আসল প্রশ্নের বড়সড় মিল রয়েছে। শুধু এক-দুটি নয়, একাধিক প্রশ্ন প্রায় হুবহু মিল। আর তারপর থেকেই জোরালো হচ্ছে প্রশ্ন এটা কি শুধুই কাকতালীয়, নাকি পরীক্ষার আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার (Medical Entrance Exam) প্রশ্নপত্র?
শুধু এখানেই থেমে থাকে নি এর থেকেও বড় চাঞ্চল্যকর যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে সেটি হলো এই প্র্যাকটিস প্রশ্নপত্র কিনতে পড়ুয়াদের গুনতে হয়েছে মোটা টাকা কেউ দিয়েছেন ২০ হাজার, কেউ আবার ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এমনকি পরীক্ষার আগের রাতেও একটি প্রশ্নপত্রের কপি ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ ।
রহস্যের সূত্র মিলেছে কেরলের একটি মেডিক্যাল কলেজে পড়া এক এমবিবিএস ছাত্রের কাছ থেকে আর সেখান থেকেই জানা যায় প্রশ্ন গুলি ছিল হাতে লেখা ৩০০-রও বেশি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজির প্রশ্ন। আর পরীক্ষার পর দেখা যায়, তার মধ্যে প্রায় ১৪০টি প্রশ্ন আসল নিট পরীক্ষার সঙ্গে মিলে যায় , তবে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, কেরিয়ার কাউন্সিলিং, বা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ।
2024 এও প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে চলেছিল বিভ্রান্তি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, রেংকিং এ কাটসাজি এবং নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলা গড়িয়েছিল তবে 2026 এর এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ ও ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এখন পুলিশের তদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে এনটিএ। কারণ,অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষা আবারও বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়বে বলেই মনে করছে অনেকে।


