Aaj India Desk, কলকাতা : সোমবার সকালে নবান্নে সারিবদ্ধ পুলিশকর্মীদের গার্ড অফ অনার পেরিয়ে প্রশাসনিক সদর দপ্তরে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যসচিব, ডিজি সহ রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এরপর খুব বেশি সময় নেয়নি নতুন সরকার। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু। বিএসএফের (BSF) জন্য জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু এবং রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালুর সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে প্রশাসনিক কাজ শুরু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় নতুন সরকার।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে বিএসএফের (BSF) জন্য জমি বণ্টন বা ল্যান্ড ট্রান্সফার প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “যেভাবে জনবিন্যাস বদলে গেছে, আমরা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য জমি বণ্টন বা ল্যান্ড ট্রান্সফারের কাজ এগিয়ে রেখেছি। তারা যতটা জমি চায় ততটাই জমি দেওয়া হবে। মুখ্যসচিবকে বিএসএফ-এর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানান তিনি।
কথা রাখলেন অমিত
পূর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন , আগামী ৪৫ দিনের মধ্যেই BSF এর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সেই কথা সত্যি প্রমাণ করে শুভেন্দু কাজের প্রথম দিনই দ্রুত এই বিষয়ে নীতি গ্রহণ করলেন। এই দিনের ক্যাবিনেট বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প রাজ্যে চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, এর আগে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য কয়েকশো কিলোমিটার জমি হস্তান্তরে নির্দেশ থাকলেও বিলম্ব হয়েছে। আদালত একাধিকবার রাজ্যকে নির্দেশ দিলেও, তখন রাজ্য এই বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে কোনো অবস্থান নেয়নি। তবে এবার নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে। পাশাপাশি শুভেন্দু জানান, আগের সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে ভূমি দপ্তরকে কাজ করতে দেননি। এবার নতুন সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে প্রবেশ করা বন্ধ করবে। নতুন সরকারের প্রথম দিনের সিদ্ধান্তে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রের ধারণা। বিএসএফের জমি হস্তান্তর এবং আয়ুষ্মান ভারত চালুর মতো সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করার দিকে নজর থাকবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।


