Aaj India Desk, দার্জিলিং : পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে শিলিগুড়ির নাগরিকদের একাংশের মধ্যে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ্যে এল।
কী লেখা ফ্লেক্সে ?
রবিবার শহরের একাধিক এলাকায় একই বার্তা নিয়ে ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছে, যেখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে টাঙানো ফ্লেক্সগুলিতে লেখা : ‘I am not satisfied with this SIR! I am worried about our fellow citizens!’
একই বার্তা, ভিন্ন মুখ
বার্তা এক হলেও প্রতিটি ফ্লেক্সে শহরের আলাদা আলাদা পরিচিত মুখ ও নাম রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মী দীপজ্যোতি চক্রবর্তী, অধ্যাপিকা ও লেখিকা সুতপা সাহা, চিত্রশিল্পী ঝুলন সরকার, বক্তা অরুময় চক্রবর্তী, শিল্পী অর্জুন দাস বাউল, চিত্রশিল্পী মৌসুমী দে, হোটেল ব্যবসায়ী উজ্জ্বল ঘোষ সহ আরও অনেকে।
প্রথমে ১৫, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে এই ফ্লেক্স দেখা গেলেও, সূত্রের খবর খুব শীঘ্রই শহরের ৪৭টি ওয়ার্ড জুড়েই এই ধরনের ফ্লেক্স লাগানো হতে পারে। শহরে এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা সহ পোস্টার দেখা গেলেও, একই বক্তব্যে একাধিক ব্যক্তির ছবি-সহ ফ্লেক্স লাগানোর ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন অনেকে।
নেপথ্যে রয়েছে কোনো রাজনৈতিক দল ?
সাংস্কৃতিক কর্মী দীপজ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, “আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নই। SIR এ অনেকের নাম বাদ পড়েছে, সেটাই আমাদের উদ্বেগের কারণ।” হোটেল ব্যবসায়ী উজ্জ্বল ঘোষের বক্তব্য, “যেভাবে নাম বাদ পড়েছে, তা না হলেই ভালো হত। নাগরিক হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা বিষয়টি সামনে আনতে চেয়েছি, কোনও বিতর্কে জড়ানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়।”
নাগরিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ
অন্যদিকে এই কারণে সোমবার দুপুর ১২টায় কাছারি রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে বিশিষ্ট নাগরিকদের জমায়েত হয়। শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “যেভাবে ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়েছে, সেই প্রেক্ষিতে নাগরিক সমাজের এইভাবে সামনে এসে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করা স্বাভাবিক। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের অংশগ্রহণ এবং মত প্রকাশের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই উদ্যোগ সেই দায়িত্ববোধেরই প্রতিফলন।” অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ জানান, তিনি এই বিষয়ে অবগত নন।
ভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এই অসন্তোষ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। নাগরিকদের অংশগ্রহণ এবং প্রকাশ্য প্রতিবাদে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে ভোটের আগে SIR বিষয়ে আদৌ নির্বাচন কমিশন নতুন করে কোনো মন্তব্য করবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।


