Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হতে বাকি আর তিন দিন। এর মধ্যেই নির্বাচনের ঠিক মুখে ফের বিতর্কে জড়ালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। সোমবার মুর্শিদাবাদের কান্দি বিধানসভা এলাকার হিজলে এক জনসভায় তাঁর সাম্প্রদায়িক মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বিতর্কিত মন্তব্যে বাড়ছে উত্তেজনা
সোমবারের সভায় হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir) বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কেউ এলে আমি হিন্দু-মুসলমান করব।” পাশাপাশি তিনি জনসংখ্যার অনুপাত টেনে মন্তব্য করেন, “৩০ শতাংশ ৩০ শতাংশই থাকবে, ৭০ শতাংশ ৭০ শতাংশই থাকবে।” এই বক্তব্য সামনে আসতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এর কড়া সমালোচনা করেছে।
রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা স্পষ্ট
বর্তমানে হুমায়ুন কবিরের (Humayun Kabir) রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তিনি নতুন দল গড়ে নির্বাচনে নামলেও উল্লেখযোগ্য কোনও জোট বা সমর্থন তাঁর পাশে নেই। বামপন্থীরা শুরুতেই দূরত্ব বজায় রেখেছে।
সম্প্রতি একটি ভাইরাল স্টিং ভিডিওকে ঘিরেও বড় রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হুমায়ুন কবির। ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, তিনি নাকি বিজেপির সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে সংখ্যালঘু ভোট প্রভাবিত করার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং অর্থ লেনদেনের কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
মাঠে একলা লড়াই
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং তাঁর দলগত সম্পর্কেও ভাঙন ধরে, এমনকি মিমও দূরত্ব তৈরি করে। যদিও হুমায়ুন কবির এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ভিডিওটি ভুয়ো এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্যই এটি ছড়ানো হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কার্যত ‘একলা চলো’ নীতিতেই এগোচ্ছেন হুমায়ুন। কান্দির সভাতেও মিমের কোনও পতাকা বা প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন না। যদিও তিনি দাবি করেন, মিম প্রার্থী মিসবাউল হকের সমর্থনেই তিনি প্রচারে গিয়েছিলেন, অসুস্থতার কারণে প্রার্থী উপস্থিত থাকতে পারেননি।
ভোটের আগে হুমায়ুন কবিরের এই মন্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিতর্কই বাড়ায়নি, বরং নির্বাচনী প্রচারের ভাষা ও দিকনির্দেশ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না এখন সেটাই দেখার।


