Aaj India Desk, পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি (BJP) প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট প্রচারের সময় ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী অনাদি ঘোষ (Anadi Ghosh) ওরফে মথুরা ঘোষকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী মহলে তুমুল তরজা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় বাম সমর্থিত আইএসএফ (ISF)-এর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ, ভোটের আগে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন ক্লাবকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে টাকা বিলি করা হচ্ছে। আইএসএফের দাবি, বিজেপি সংগঠিতভাবে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। এই প্রসঙ্গে বাম সমর্থিত আইএসএফ প্রার্থী জাকির গাইন বলেন, বিজেপি বিভিন্ন ক্লাবে টাকা দিচ্ছে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, এভাবে অর্থের জোরে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে, যা কোনওভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়েছে এবং কমিশনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।
এই ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস(TMC) ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। কেতুগ্রাম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন আচরণবিধি উপেক্ষা করে টাকা বিলির ঘটনা ঘটেছে। তাঁর কথায়, এ সংক্রান্ত একাধিক প্রমাণ রয়েছে। অভিযোগ জানানো হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত তেমন সক্রিয় ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। জানা গিয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল কেতুগ্রাম বিধানসভার কোমরপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে যান বিজেপি প্রার্থী অনাদি ঘোষ। সেই সময় তাঁর হাতে একটি খাম থাকা অবস্থায় তোলা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আচরণবিধি ভেঙে টাকা বিলি করা হচ্ছে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আইএসএফ নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়।
তবে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিজেপি প্রার্থী অনাদি ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, কোনও টাকা বিলি করা হয়নি। তিনি জানান, স্থানীয় একটি মন্দিরের পক্ষ থেকে পুজোর খরচের জন্য ৫০০০ টাকার একটি বিল তাঁদের দলের এক কর্মীর হাতে দেওয়া হয়েছিল। সেই বিষয়টি নিয়েই ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী বিধিনিষেধ চলাকালীন তিনি নিজে কোনও টাকা বিলি করতে পারেন না এবং করেনওনি। আইএসএফ প্রার্থীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।


