Aaj lndia Desk, মুম্বাই: ফ্রান্সের কাছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটা সুখের স্মৃতি হয়ে থাকল না। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ ব্যবধানে হারতে হয়েছে লে ব্লুদের। তবে দলের পরাজয়ের মাঝেও আলো কেড়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে এমন এক নজির গড়লেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করল।
এই ম্যাচে দুটি গোল করেন ফরাসি অধিনায়ক। আর সেই দুই গোলের জোরেই বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ২২-এ। ফলে ২১ গোল নিয়ে এতদিন শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এলেন এমবাপে।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য খুব একটা চোখে পড়েননি রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের রক্ষণ তাঁকে আটকে রাখতে সফল হয়। কিন্তু বিরতির পর বদলে যায় ছবিটা। ৪৮ মিনিটে প্রথম গোল করে ব্যবধান কমান তিনি। এরপর ৬৬ মিনিটে ফের গোল করে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেন। সেই গোলের সঙ্গেই মেসিকে পিছনে ফেলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন ফরাসি অধিনায়ক।
আরও একটি দিক থেকে এমবাপের কৃতিত্ব নজর কাড়ছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে রাউন্ড অফ ৩২, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল প্রায় সব পর্যায়েই তাঁর গোল রয়েছে। একমাত্র সেমিফাইনালই এখনও অধরা। বিশ্বকাপে তিনবার শেষ চারের ম্যাচ খেললেও সেই মঞ্চে এখনও গোলের দেখা পাননি তিনি।
শুধু সর্বকালের গোলদাতার তালিকাতেই নয়, চলতি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এখন সবচেয়ে এগিয়ে এমবাপে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করার পর এই টুর্নামেন্টে তাঁর সংগ্রহ ১০ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের ঝুলিতে রয়েছে ৮ গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট। তৃতীয় স্থানে আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের স্ট্রাইকার ৭টি গোল করলেও কোনও অ্যাসিস্ট নেই। সমান ৭ গোল করে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন জুড বেলিংহ্যাম, তবে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১টি অ্যাসিস্ট। পঞ্চম স্থানে থাকা হ্যারি কেন করেছেন ৬ গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন উসমান ডেম্বেলে, তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৬ গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট।
এখন সব নজর বিশ্বকাপ ফাইনালে। শুধু শিরোপা জয়ের লড়াই নয়, গোল্ডেন বুট নিয়েও জমে উঠেছে প্রতিযোগিতা। এমবাপেকে টপকে যেতে হলে স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে লিওনেল মেসিকে অন্তত দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করতে হবে। অর্থাৎ, দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট করতে পারলেই গোল্ডেন বুটের শীর্ষে উঠে আসতে পারবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ফলে রবিবারের ফাইনাল একসঙ্গে দুই লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে। একদিকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে ব্যক্তিগত রেকর্ড ও গোল্ডেন বুটের দৌড়। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই দ্বৈরথ নিঃসন্দেহে ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ।


