Aaj India Desk, মুম্বাই: একটা আগস্টে শুরু হয়েছিল গল্পটা। ২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নেমেছিলেন এক তরুণ লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। ২১ বছর পর সেই আগস্টেই শেষ হল তাঁর আন্তর্জাতিক ফুটবলের অধ্যায়। ২০২৬ সালের ৩১শে আগস্ট জানিয়ে দিলেন, দেশের জার্সিতে আর দেখা যাবে না তাঁকে। আবেগ, সাফল্য, আক্ষেপ আর অগণিত রেকর্ডে ভরা এক অসাধারণ সফরের ইতি ঘটল।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পরিসংখ্যানই বলে দেয় তাঁর প্রভাব কতটা। জাতীয় দলের হয়ে রেকর্ড ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। গোল করেছেন ১২৫টি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোলের নিরিখে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পরেই তাঁর অবস্থান। শুধু গোল করেই থামেননি মেসি। সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা। আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর অ্যাসিস্টের সংখ্যা ৬৮।
তবে মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় নিঃসন্দেহে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেশের হয়ে বিশ্বকাপ হাতে তুলেছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে ফাইনালে পৌঁছেও ট্রফি অধরা থেকে গিয়েছিল। পরে ২০২২-এ সেই আক্ষেপ মুছে যায়। বিশ্বকাপে দু’বার গোল্ডেন বল জেতার নজিরও রয়েছে তাঁর ২০১৪ এবং ২০২২ সালে। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর মোট গোল ২১টি।
বিশ্বকাপ ছাড়াও আর্জেন্টিনার হয়ে একাধিক বড় সাফল্য এসেছে মেসির হাত ধরে। ২০২১ এবং ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা জিতেছে আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে দু’বার রানার্স আপ হতে হয়েছিল তাঁকে। ২০২২ সালে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালিসিমা জেতার সময়ও দলের অন্যতম মুখ ছিলেন মেসি। দেশের হয়ে অলিম্পিক্সে সোনাও রয়েছে তাঁর সংগ্রহে।
এত সাফল্যের পরও ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসিকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা ছিল। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি হয়তো আরও একটি বিশ্বকাপ খেলবেন এমন প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের একাংশের। কিন্তু মেসি নিজেই সেই সম্ভাবনায় ইতি টানলেন।
ইনস্টাগ্রামে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে মেসি বলেন, জাতীয় দলের জন্য তিনি তাঁর সর্বস্ব দিয়েছেন। এখন তাঁর মনে হচ্ছে, আর কিছু দেওয়ার মতো অবশিষ্ট নেই। সময় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, জীবনের অধ্যায়গুলো একে একে শেষ হচ্ছে এই উপলব্ধিই তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
এর মধ্যেই ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ধাক্কা এসেছে মেসির জীবনে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে তাঁর বাবা হোর্হে মেসির। মেসি জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যুর পর তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও নিশ্চিত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেও ক্লাব ফুটবলে এখনও তাঁকে দেখা যাবে। ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন তিনি। কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সিতে যে অধ্যায় ২০০৫ সালে শুরু হয়েছিল, ২০২৬-এর অগাস্টে এসে তার শেষ লাইনটি লিখে ফেললেন লিওনেল মেসি। ২০৭ ম্যাচ, ১২৫ গোল, বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা সবকিছুর পর থেকে গেল একটাই পরিচয় আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।


