Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : নেপালের দুর্ভোগের ছায়া যেন নেমে আছে ভারতে। দেশের বিস্তীর্ণ অংশে টানা ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। শুক্রবার একাধিক রাজ্যে প্রবল বৃষ্টির জেরে বন্যা, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা (Flood Alert India) তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দু’দিনও বেশ কয়েকটি রাজ্যে ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির জেরে মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং দিল্লি-এনসিআর-সহ দেশের একাধিক অঞ্চলে বন্যা ও জলমগ্নতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের উত্তর ও পশ্চিম জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি ও ললিতপুরেও বন্যার সতর্কতা জারি হয়েছে। পাশাপাশি অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মিজোরাম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্যেও ভারী বৃষ্টির কারণে স্থানীয় বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে।
মধ্যপ্রদেশে ভারী বৃষ্টিতে জারি কমলা সতর্কতা
শুক্রবার ভারী বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রদেশ। সেখানে ১১৫ থেকে ২০৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজ্যের উত্তর ও পশ্চিমের একাধিক জেলায় আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে প্রশাসন। (Flood Alert India)
উত্তরপ্রদেশ-রাজস্থানেও বাড়ছে উদ্বেগ
ভারী বৃষ্টির জেরে উত্তরপ্রদেশ ও পূর্ব রাজস্থানের একাধিক এলাকাতেও পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি ও ললিতপুর-সহ কয়েকটি এলাকায় বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। (Flood Alert India)
উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণেও বৃষ্টির দাপট
উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয় ও মিজোরাম-সহ বিভিন্ন রাজ্যে শুক্রবার মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের তেলঙ্গানা, তামিলনাড়ু ও কর্নাটকের কয়েকটি এলাকাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া দেখা গিয়েছে।
দিল্লিতে জলমগ্ন রাস্তা, বিপর্যস্ত যান চলাচল
ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি ও এনসিআর এলাকাতেও জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে দিল্লির বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দফতর রাজধানীর একাধিক এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করেছে।পালামে প্রায় ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। লোদি রোড, সফদরজং, জনকপুরী-সহ বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যানজট তৈরি হয়।
বৃষ্টির জেরে দিল্লি বিমানবন্দরেও জল জমে যায়। বৃষ্টির এক ঘণ্টার মধ্যেই বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ও সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে জল দাঁড়িয়ে যায়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী নয়টি বিমানকে লখনউ ও আমদাবাদের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আগামী দু’দিনও দেশের একাধিক অংশে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


