কলকাতা: কালীগঞ্জের কর্মীসভায় গিয়ে পার্টি অফিসের জানলা দিয়ে উড়ে এসেছিল ডিম, কাঁচা সবজি, কাদা। বুধবারের সেই ঘটনায় রেগে আগুন হয়ে সমাজমাধ্যমে একের পর এক ভিডিও পোস্ট করেছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। বিজেপি সমর্থকরাই পরিকল্পিতভাবে এই বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে এবং রাজ্য পুলিশ এই হামলায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে, বলে তোপ দেগেছিলেন তিনি। এই হামলার পর রক্ষাকবচ চেয়ে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন মহুয়া (Mahua Moitra)। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে রক্ষাকবচ চেয়ে মামলা দায়েরের অনুমতি চান তিনি।
মহুয়ার অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করছে। কিন্তু তাঁর পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ক্ষেত্রে একই ধরনের সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ চান তৃণমূল সাংসদ।
এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। তাঁর আবেদন শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন। আগামী দিনে এই মামলার শুনানিতে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, গত জুলাই কালীগঞ্জের কর্মীসভা চলাকালীন পার্টি অফিসের বাইরে কালো পতাকা হাতে একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। তাঁদের মুখে “মহুয়া মৈত্র হায় হায়” এবং “মহুয়া মৈত্র গো ব্যাক” স্লোগান শোনা যায়।
এরপরই তাঁকে (Mahua Moitra) লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম ও সবজি ছোড়া হয় বলে দাবী করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এটাই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিজেপির লোকজন আমাদের ঘেরাও করে রেখেছে। জানালা দিয়ে আমার উপর হামলা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ সব দেখেও দাঁড়িয়ে রয়েছে। কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিক্ষোভকারীদের সরানোরও কোনও চেষ্টা করা হচ্ছে না।”


