কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই খুলে গিয়েছে তৃণমূলের ‘প্যান্ডোরার বক্স’! আর তাতে অভিযোগের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন একসময় তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ডায়মন্ড হারবার থানায় আগেই অভিষেক সহ তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।
এবার ফের নতুন বিপাকে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। জানা গিয়েছে, ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে ডায়মন্ড হারবার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই চিকিৎসকদের দিয়ে বেআইনিভাবে স্বাস্থ্য শিবির (Sebasray) পরিচালনা করা হয়েছে এবং রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতি করা হয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সেবাশ্রয় শিবিরে এমন চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে, যাঁদের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। পাশাপাশি শিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক আইনি বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট এবং ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স অ্যাক্ট-সহ একাধিক আইনে মামলা রুজু হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, চিকিৎসা পরিষেবার নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মানা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সেবাশ্রয়ে (Sebasray) হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো, নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে অভিষেক (Abhishek Banerjee) ও তাঁর আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। তাঁর অভিযোগ ছিল, ওই চিকিৎসকদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন ছিল না, তবুও তাঁদের দিয়ে প্রেসক্রিপশন লেখা ও রোগী দেখানোর কাজ করানো হয়েছে।
তিনি একটি প্রেসক্রিপশনের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে রোগীর নাম ও বয়স থাকলেও রোগের বিবরণ ছিল না। সেখানে শুধুমাত্র ‘Referred to Hospital’ লেখা ছিল এবং চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বরও উল্লেখ ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।
এছাড়াও অভিযোগ করা হয়েছে, শিবিরে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (USG) মেশিন ব্যবহারের জন্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিজেপি নেতার আরও দাবি, শিবিরে (Sebasray) ভিড় বাড়ানোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর করে নিয়ে আসা হতো, যাতে প্রকল্পটিকে সফল বলে তুলে ধরা যায়। অভিযোগপত্রে ব্যবহৃত ওষুধের মান ও মেয়াদ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।


