নয়াদিল্লি: প্রবেশিকা পরীক্ষা হোক বা চাকরির পরীক্ষা, প্রশ্ন কেমন আসবের থেকেও পরীক্ষার্থীদের মাথায় বেশি চিন্তা থাকে, পেপার ক্যান্সেল হয়ে যাবে না তো? সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তার জেরে পেপার ক্যান্সেল বলা যায় ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে। চোখ-কান বুজে পড়াশুনো করে স্বর্ণজ্জল ভবিষ্যৎ গড়ার পরিবর্তে পরীক্ষার্থীদের কপালে জোটে অনিশ্চয়তা। প্রশ্নপত্র ফাঁস তো কোনভাবেই রোখা যাচ্ছে না। তাই এবার হয়ত পরিক্ষাটাই তুলে দেওয়া হতে চলেছে!
স্কুলের গন্ডি পেরনোর পর জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা NEET-JEE। এই পরীক্ষা দিয়েই হাজার হাজার ছেলেমেয়েরা স্বপ্ন দেখে কেউ ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। তবে এবার মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির নিয়মে বড় পরিবর্তনের ভাবনা চলছে। ভবিষ্যতে NEET ও JEE-র মতো সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার পাশাপাশি বোর্ড পরীক্ষার নম্বরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারে। সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার নম্বরকে ৫০ শতাংশ ওয়েটেজ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের গঠিত নয় সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। কোচিং সেন্টারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো, ডামি স্কুলের প্রবণতায় লাগাম টানা এবং প্রবেশিকা পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ ও ছাত্রবান্ধব করতেই এই পরিবর্তনের ভাবনা বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে JEE ও
NEET-এ ভর্তির নিয়ম কী?
বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির জন্য সর্বভারতীয় JEE Main এবং মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য NEET-UG পরীক্ষার নম্বরই মূল ভিত্তি। বোর্ড পরীক্ষায় শুধুমাত্র নির্ধারিত যোগ্যতামান বা Qualifying Marks পেলেই আবেদন করা যায়। অর্থাৎ, ভর্তির মেধাতালিকা তৈরিতে বোর্ড পরীক্ষার নম্বরের কোনও আলাদা ওয়েটেজ থাকে না।
কী কী পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে?
সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে—
- বোর্ড পরীক্ষার নম্বরকে ৫০% ওয়েটেজ দেওয়ার প্রস্তাব।
- JEE ও NEET-এর পাঠ্যক্রমকে স্কুলের সিলেবাসের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
- কোচিং সেন্টারের উপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ।
- একাধিকবার প্রবেশিকা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ বাড়ানো।
- ধাপে ধাপে Adaptive On-Demand Computer-Based Test চালুর ভাবনা। এই পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীর
- আগের উত্তরের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশ্নের কঠিনতার মাত্রা নির্ধারণ করা হবে।
- ভর্তি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নমনীয় এবং দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ।
তবে এই মুহূর্তে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে কেন্দ্র সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে সূত্রের খবর।


