কলকাতা: এক ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে সদ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বলেন, “পুষ্পা এমন ঝোঁকা ঝুকেছে, যে খালি পায়ে, ছোট প্যান্ট পরে কান ধরে ওঠবস করতে করতে গেছে”! ওই অধিবেশনেই নওদার বিধায়ক হুমায়ুনকেও (Humayun Kabir) আল্টিমেটাম দেন তিনি। তারপই হুমায়ুনের বাড়িতে পৌঁছয় দুই থানায় হাজিরার নোটিশ। শুক্রবার বেলা ১১ টা নাগাদ শক্তিপুর থানায় হুমায়ুনের (Humayun Kabir) হাজিরার কথা ছিল। তবে হাজিরা দিতে যাবেন না, বলে সাফ জানান তিনি! শুধু তাই নয়, শক্তিপুর থানার ওসিকে বাপ-মা তুলে গালাগালি পর্যন্ত করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চিফ তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)।
হুমায়ুনের অভিযোগ, শক্তিপুর থানার ওসি বিভিন্ন জায়গায় তাঁর সম্পর্কে কটূক্তি করছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ওসি যেখানে যাচ্ছে সেখানেই বলছে, আমার বাপ এসেছে! আজ যাচ্ছি না। তবে এসপিকে জানিয়ে শক্তিপুর থানায় হাজির হব। আমার নতুন বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাব! প্রয়োজনে মাকেও নিয়ে যাব। তাঁর স্বামীকে চিনতে পারেন কি না, দেখব।”
এরপর রেজিনগর থানায় হাজিরা প্রসঙ্গেও সরব হন বিধায়ক। তিনি (Humayun Kabir) জানান, পরদিন রেজিনগর থানায় হাজিরা দিতে যাবেন, তবে একা নন। তাঁর দাবি, প্রায় এক হাজার সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে থানায় যাবেন। হুমায়ুন বলেন, “আমাকে যদি গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে আমার সঙ্গে ওই এক হাজার লোকও যাবে।”
বলা বাহুল্য, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সাবধান বার্তা, ৩ শাগরেদ গ্রেফতার, দুই থানা থেকে পুলিশি নোটিশ—এসবের পরও ঝাঁজ কমেনি হুমায়ুন কবিরের (Humayun Kabir)। উপরন্তু শক্তিপুর থানাক্য ওসিকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করে আরও বিতর্ক বাড়ালেন তিনি। উল্লেখ্য, ২৬ জুন রেজিনগরের কাশীপুরে একটি জনসভায় বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে হুমায়ুন (Humayun Kabir) বলেন, “মুসলমানদের জড়ো করে এমন স্যাটাভাঙা মার শুরু করব, যে পতাকা বওয়ার লোক পাবে না”!
পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “আমার মাথা যেদিন গরম হয়ে যাবে, সেদিন আমি এসপি, চিফ মিনিস্টার—এসব কিছু বুঝব না।” এখানেই শেষ নয়, কাশীপুরের জনসভায় তাঁর আরও চ্যালেঞ্জ, ‘‘কেস হবে? ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে অনেক আছে।” এরপর বিধানসভায় হুমায়ুনকে উদ্দেশ্য করে বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ধরে রাখুন, এটাই হুমায়ুনের শেষ বক্তব্য”! এরপরদিনই গ্রেফতার হন কাশীপুরে হুমায়ুন কবিরের (Humayun Kabir) সভার দুই আয়োজক সহ আরও এক। শক্তিপুর ও রেজিনগর দুই থানা থেকে হাজিরার নোটিশও যায় হুমায়ুনের কাছে।


