Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: ভারতের পরমানু তথ্য এবার ডার্ক ওয়েবে! এমনটাই দাবি করেছে র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী ওয়ার্ল্ড লিকস (World Leaks)। ভারতের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট সংক্রান্ত প্রায় ১৯,০০০ সংবেদনশীল নথি ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে এই ওয়ার্ল্ড লিকস। হ্যাকারদের দাবি, এই তথ্য অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের সার্ভার থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভারতের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা CERT-In। (India Data Breach)
কী কী তথ্য ফাঁসের দাবি?
সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রাকেশ কৃষ্ণনের প্রথম নজরে আসে ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত এই তথ্যভান্ডার। তাঁর দাবি, “KKNP” নামে চিহ্নিত প্রায় ১৯ হাজার ফাইল ১১ জুন থেকে অনলাইনে রয়েছে। মোট তথ্যের আকার প্রায় ১৪.৩ গিগাবাইট। (India Data Breach)
ফাঁস হওয়া নথিগুলির মধ্যে রয়েছে পরমাণু কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশের নকশা, ভেন্টিলেশন ও কুলিং সিস্টেমের ব্লুপ্রিন্ট, কমন কন্ট্রোল রুমের সম্ভাব্য ফ্লোর প্ল্যান, সরবরাহকারী সংস্থার তালিকা, বৈঠক ও পরিদর্শনের নথি, যন্ত্রপাতি পর্যালোচনা এবং বিমা-সংক্রান্ত তথ্য।
দায় স্বীকার রিলায়েন্সের
ঘটনার পর দায় স্বীকার করে অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের ডেটা সেন্টার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা Yotta-র হোস্ট করা একটি সার্ভারে তাদের তথ্যের আংশিক লঙ্ঘন হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই সরকারকে জানানো হয়েছে। Yotta জানিয়েছে, গত ২৯ মে একটি সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যকলাপ ধরা পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করা হয়। সংস্থার দাবি, সম্ভাব্য র্যানসমওয়্যার কার্যক্রম প্রতিহত করা হয়েছিল। তবে জুনের শেষ দিকে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার তাদের জানায়, হুমকি-সৃষ্টিকারীরা তথ্য ফাঁসের দাবি করছে। (India Data Breach)
পরমাণু নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ (NTI)-এর সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোলাস রথের মতে, যদি এই তথ্যগুলি সত্যিই ফাঁস হয়ে থাকে, তাহলে তা পরমাণু কেন্দ্রের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নথি ব্যবহার করে কোনও সাইবার হামলাকারী পরমাণু কেন্দ্রের সহায়ক অবকাঠামো, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সম্ভাব্য দুর্বলতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে। যদিও প্রকাশিত নথিগুলিতে মূল পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর পরিচালন ব্যবস্থার তথ্য থাকার প্রমাণ এখনও মেলেনি।
কোন প্রকল্পের তথ্য সামনে এসেছে?
রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ২০১৮ সালে কুদানকুলাম প্রকল্পের তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিটের অবকাঠামো নির্মাণের চুক্তি পায়। বর্তমানে নির্মাণাধীন এই দুটি ইউনিট ২০২৭ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা এবং সম্মিলিতভাবে ২,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (NPCIL) ইতিমধ্যেই রিলায়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং CERT-In ঘটনার তদন্ত করছে। তবে NPCIL, পরমাণু শক্তি দফতর এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৯ সালেও কুদানকুলাম পরমাণু কেন্দ্রের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে একটি ম্যালওয়্যার শনাক্ত হয়েছিল। যদিও তখন নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন জানিয়েছিল, ওই ঘটনায় প্ল্যান্টের পরিচালন ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়েনি।


