Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বহুদিনের অপেক্ষার পর সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (CETA) বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে রয়েছে।
চুক্তি চালু হওয়ার পর ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন ভারতের প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্য কোনও আমদানি শুল্ক ছাড়াই ব্রিটেনের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে কোন কোন ক্ষেত্র?
এই চুক্তির সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, জুতো শিল্প, সামুদ্রিক খাদ্য, খেলনা, ক্রীড়া সামগ্রী, রত্ন ও গয়না, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, অটো পার্টস, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং রাসায়নিক শিল্প। এসব পণ্য ব্রিটিশ বাজারে শুল্কমুক্তভাবে রফতানি করা গেলে উৎপাদকদের আয় ও রফতানি—দুই-ই বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতে, এই চুক্তি দেশের কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, স্টার্টআপ এবং নতুন উদ্ভাবকদের জন্য আরও বেশি ব্যবসার সুযোগ তৈরি করবে। একইসঙ্গে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ভারতে কোন পণ্যের দাম কমতে পারে?
এই চুক্তির ফলে ধাপে ধাপে ব্রিটেন থেকে আমদানি হওয়া বেশ কিছু পণ্যের উপর শুল্ক কমানো হবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে স্কচ হুইস্কি ও ব্রিটিশ গাড়ির ক্ষেত্রে। বর্তমানে স্কচ হুইস্কির উপর ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক রয়েছে। প্রথম ধাপে তা ৭৫ শতাংশে নামানো হবে এবং আগামী ১০ বছরের মধ্যে তা কমে ৪০ শতাংশে পৌঁছবে।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ গাড়ির উপর বর্তমানে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কোটার আওতায় এই শুল্ক ধাপে ধাপে কমে ১০ শতাংশ হবে। বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়িও এই সুবিধার আওতায় আসবে। এছাড়া ব্রিটেন থেকে আমদানি হওয়া চকোলেট, বিস্কুট, প্রসাধনী, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও অটো পার্টসের মতো পণ্যের দামও ভবিষ্যতে কিছুটা কমতে পারে।
কৃষিক্ষেত্রে থাকছে সুরক্ষা
দেশের কৃষক ও দুগ্ধশিল্পের স্বার্থে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিজ পণ্যকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, চিনি, চাল, আপেল, চিজ, মুরগির মাংস, শূকরের মাংস এবং ডিম। ফলে এসব ক্ষেত্রে বিদেশি পণ্যের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতার চাপ পড়বে না দেশীয় উৎপাদকদের উপর।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তির ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে মোট বাণিজ্য প্রায় ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং রফতানির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে।


