মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কাছে কর্ণসুবর্ণের লেভেল ক্রসিং-এর ভয়াবহ ট্রেন-পুলকার দুর্ঘটনার (Murshidabad train accident) তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে রেল নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য একাধিক দিক। তদন্তকারীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, ‘প্রাইভেট নম্বর’ জারি হওয়ার পরেও কেন লেভেল ক্রসিং গেট খোলা হয়েছিল?
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে আপ লাইনে নবদ্বীপধাম–বালুরঘাট এক্সপ্রেস এবং ডাউন লাইনে নিমতিতা–কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলাচলের বিষয়ে গেটম্যান অনুপ কর্মকারকে আগেই সতর্ক করেছিলেন কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ধর্মেন্দ্র কুমার। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে ‘প্রাইভেট নম্বর’-ও দেওয়া হয়েছিল। নন-ইন্টারলকিং লেভেল ক্রসিংয়ে এই ‘প্রাইভেট নম্বর’ ট্রেন চলাচলের আগে গেট বন্ধ রাখার নির্দেশ ও অনুমতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
তদন্তে স্টেশন মাস্টার ধর্মেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, তিনি নিয়ম মেনেই গেটম্যানকে ট্রেন চলাচলের তথ্য ও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সেই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কী কারণে লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা হয়েছিল? রেলের একাংশের প্রাক্তন আধিকারিকদের মতে, নন-ইন্টারলকিং লেভেল ক্রসিংয়ে দীর্ঘ যানজট এড়াতে অনেক সময় কিছু গেটম্যান নিয়ম ভেঙে সাময়িকভাবে গেট খুলে দেন। যদিও এই ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ নিরাপত্তা বিধির পরিপন্থী এবং বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে, গেট খোলার সিদ্ধান্ত কী পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যক্তিগত গাফিলতি ছিল নাকি অন্য কোনও কারণ কাজ করেছিল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর না মিললেও, কর্ণসুবর্ণের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা (Murshidabad train accident) ফের রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নন-ইন্টারলকিং লেভেল ক্রসিংয়ের কার্যপদ্ধতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬ টা নাগাদ কর্ণসুবর্ণের লেভেল ক্রসিং-এ ট্রেনের সঙ্গে পুলকারের ভয়াবহ সংঘর্ষে (Murshidabad train accident) ঘটনাস্থলেই মারা যায় দুই পড়ুয়া সহ এক চাষি। ওই স্কুলগাড়িতে মোট ৭ জন শিশু ছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায় আরও দুই খুদে।


