Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর মাধ্যমে একটি হাতে লেখা চিঠি প্রকাশ করে আগামী ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানে যোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি এই আন্দোলনকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, এর উদ্দেশ্য এমন একটি ভারত গড়া যেখানে মানুষ অন্যায় ও ভয়ের ঊর্ধ্বে থেকে বাঁচতে পারবেন।
রবিবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ওই চিঠিতে ওয়াংচুক সাধারণ মানুষকে বড় সংখ্যায় সংসদ অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই আন্দোলন শুধু কোনও একটি নির্দিষ্ট দাবিকে ঘিরে নয়; এটি ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সাধারণ মানুষের মর্যাদার লড়াই।
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য হল মানুষকে অন্যায় থেকে মুক্ত করা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে তিনি সেই অন্যায়ের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ‘ভয়মুক্ত ভারত’-এর কথাও বলেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে, তাই ভয়ের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
সোনম ওয়াংচুক আরও দাবি করেন, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে রাখা হয়েছে। শনিবার দিল্লি পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি এই অভিযোগ করে আসছেন। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে। সংগঠনের দাবি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেই এই কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে যোগ দেন সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনের সমর্থনে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশনও শুরু করেন। দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।ওয়াংচুকের নতুন এই বার্তা সামনে আসার পর আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তিনি সংসদ অভিযানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যদিকে নিজের আটক থাকার অভিযোগ তুলে আন্দোলনকে আরও জোরদার করার বার্তা দিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় গীতাঞ্জলি আংমো অভিযোগ করেন, হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুককে পুলিশের কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে মোবাইল ফোন নিয়ে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না এবং একজন একজন করে দেখা করতে হচ্ছে। তিনি সোনমকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে চাইছেন, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দিল্লি পুলিশ তাতে বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।
প্রসঙ্গত, নিট পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্কের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অনশন চলায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে জোর করে খাওয়ানোর আর্জি জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। হাইকোর্ট কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়, সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় যা যা প্রয়োজন তা অবিলম্বে করতে হবে। সেই নির্দেশের দু’দিন পর শনিবার অনশনরত ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে তুলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


