Aaj lndia Desk, নয়াদিল্লি: মাসের শেষে হাতে আর কতই বা টাকা থাকে? তবে প্রতিদিনের খরচ থেকে মাত্র ৩০০ টাকা আলাদা করে রাখলেই ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে ১৫ লক্ষ টাকারও বেশি তহবিল। একদিনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ নয়, নিয়মিত ছোট ছোট সঞ্চয়ই হতে পারে মোটা রিটার্নের চাবিকাঠি। আর সেই সুযোগ দিচ্ছে পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট বা আরডি স্কিম।
বর্তমান সময়ে বিনিয়োগের নানা বিকল্প থাকলেও অনেকেই এমন প্রকল্প খোঁজেন, যেখানে তুলনামূলক নিরাপদভাবে অল্প টাকা দিয়ে সঞ্চয় শুরু করা যায়। পোস্ট অফিসের আরডি স্কিম সেই ধরনের একটি জনপ্রিয় প্রকল্প। এখানে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা করতে হয় এবং জমা অর্থের উপর নির্ধারিত হারে সুদ পাওয়া যায়।
এই স্কিমে মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও সর্বোচ্চ সীমা নেই। ফলে নিজের আয় ও আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতি মাসে টাকা জমা করা যায়। সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খোলারও সুবিধা রয়েছে।
বর্তমানে পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট স্কিমে ৬.৭ শতাংশ হারে সুদ মিলছে। এই প্রকল্পের মূল মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর চাইলে আরও পাঁচ বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো যায়। অর্থাৎ নিয়ম মেনে বিনিয়োগ চালিয়ে গেলে মোট ১০ বছর পর্যন্ত সঞ্চয় করা সম্ভব।
ধরা যাক, কোনও ব্যক্তি প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে সঞ্চয় করছেন। সেই হিসাবে প্রতি মাসে জমা হবে ৯ হাজার টাকা। টানা পাঁচ বছর এই হারে টাকা জমা করলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে সুদ হিসেবে প্রায় ১ লক্ষ ২ হাজার ২৯১ টাকা যোগ হতে পারে।
এরপর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে একই হারে বিনিয়োগ চালিয়ে গেলে ১০ বছরে মোট জমার পরিমাণ হবে ১০ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। সুদ থেকে পাওয়া যেতে পারে ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকারও বেশি। সব মিলিয়ে মেয়াদ শেষে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ৬৯২ টাকা হতে পারে।
তবে এই হিসাব বর্তমান সুদের হার এবং নিয়মিত বিনিয়োগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সুদের হার পরিবর্তন হলে রিটার্নের অঙ্কও বদলাতে পারে। তাই টাকা বিনিয়োগের আগে পোস্ট অফিসের সর্বশেষ নিয়ম ও সুদের হার যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
অল্প অল্প করে সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের জন্য বড় তহবিল গড়তে চাইলে পোস্ট অফিসের আরডি স্কিম একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।


