Aaj India Desk, কলকাতা: শিক্ষক বদলির (Teacher Transfer) ক্ষেত্রেও কি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠছে? কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) এমনই একটি অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, প্রায় ২ লক্ষ টাকা দিলে পছন্দের স্কুলে বদলির ব্যবস্থা করে দেওয়া হত। এই দাবির সমর্থনে আদালতে একটি অডিও রেকর্ডও (Audio Record) জমা দিয়েছেন এক শিক্ষক। সেই অডিও শুনে বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
ঘটনার তদন্ত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনও (SSC)। এরপরই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কলকাতা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কসবা থানার ওসিকে প্রাথমিক অনুসন্ধান করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে হবে। অভিযোগে আরও জানা যাচ্ছে, কোন নম্বর থেকে ওই শিক্ষককে টাকা চেয়ে ফোন করা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখতে হবে পুলিশকে। শুধু কোনও ব্যক্তি জড়িত, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র রয়েছে, সেটাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি কসবার ডিআই-এর কাছ থেকেও রিপোর্ট চেয়েছেন বিচারপতি।
শিক্ষক বদলির বিষয়টি অবশ্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করছে না। রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম, আবার কোথাও শিক্ষকের সংখ্যা বেশি—এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে গত জুলাইয়ে স্কুলশিক্ষা দফতর একটি নতুন নির্দেশিকা বা SOP জারি করে। সেখানে ছাত্রছাত্রী নেই এমন স্কুল, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক থাকা স্কুল এবং যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত বেশি, অর্থাৎ শিক্ষক প্রয়োজন এমন স্কুল—সবকিছুকেই বদলি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে কোন স্কুলে পড়ুয়া নেই, কোথায় অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন এবং কোথায় শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে, সেই তালিকা তৈরি করে প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু এই প্রক্রিয়া নিয়েই কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্ন ওঠে। এরপর বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্কুলশিক্ষা দফতরের ওই SOP-র উপর আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ‘সারপ্লাস ট্রান্সফার’ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।


