SPECIAL FEATURE
সকালে অফিসে ঢোকার সময় বুকটা একটু ধড়ফড় করে। কাজের তালিকা তৈরি, ডেস্কও গুছিয়ে রাখা। তবু বসের কেবিনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় একবার চোখ চলে যায় তাঁর দিকে। মুখটা আজ কেমন? মেজাজ ভালো তো? নাকি আবার কোনও ভুলের জন্য সবার সামনে বকা খাবেন?
অফিসে এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই। দিনের পর দিন পরিশ্রম করছেন, সময়মতো পৌঁছচ্ছেন, কাজ ফেলে রাখছেন না তার পরেও কেন যেন বসের মন পাওয়া যাচ্ছে না। কখনও হঠাৎ বাড়তি কাজ, কখনও সামান্য ভুলে কড়া কথা। অথচ একই অফিসে এমন কিছু কর্মীও থাকেন, যাঁদের দেখলেই বসের মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
এর পিছনে শুধু কাজের মান নয়, আপনার অফিসের আচরণ, অভ্যাস এবং পেশাদারিত্বও অনেকটা দায়ী হতে পারে। তাই বসকে খুশি করার জন্য তোষামোদ নয়, বরং কিছু ছোট অভ্যাস বদলে ফেলুন।
পোশাকেই তৈরি হোক প্রথম ইমপ্রেশন
অফিসে ঢোকার পর প্রথমেই আপনার কাজ নয়, চোখে পড়ে আপনাকে। তাই পোশাকের দিকে একটু নজর দেওয়া জরুরি। পরিষ্কার, ইস্ত্রি করা এবং অফিসের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই পোশাক পরুন। অতিরিক্ত ক্যাজুয়াল পোশাকের বদলে ফর্মাল লুক রাখলে আপনার মধ্যে পেশাদারিত্বের ছাপ থাকবে।
সময়কে গুরুত্ব দিন
‘আজ বাস পাইনি’, ‘রাস্তায় জ্যাম ছিল’ দেরি হলে অজুহাতের অভাব হয় না। কিন্তু প্রতিদিন একই গল্প শুনতে কারও ভালো লাগে না। তাই সম্ভব হলে হাতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় নিয়ে বেরোন। সময়মতো অফিসে পৌঁছনো থেকেই দায়িত্বশীল কর্মীর ভাবমূর্তি তৈরি হতে পারে।
টেকনোলজিতে পিছিয়ে থাকবেন না
অফিসের কাজ করতে গিয়ে বারবার অন্যের সাহায্য নিতে হলে কাজের গতি কমবেই। তাই কম্পিউটার, ই-মেল, ইন্টারনেট, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার কিংবা অফিসের অন্যান্য ডিজিটাল টুল ব্যবহারে নিজেকে আপডেট রাখুন। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ থাকাটাও এখানে বড় প্লাস পয়েন্ট।
কাজ এলে মুখ লুকিয়ে ফেলবেন না
বস বললেন, “এই প্রজেক্টটা কে করবে?” সঙ্গে সঙ্গে মাথা নিচু করে ফোন দেখার অভ্যাস থাকলে চলবে না। কাজটা যদি আপনার সামর্থ্যের মধ্যে হয়, আগ্রহ দেখান। সব দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে তুলে নেওয়ার কথা নয়, তবে সুযোগ এলে পিছিয়ে না যাওয়ার মানসিকতা আপনার ইমেজ বদলাতে পারে।
বস কী চাইছেন, সেটা আগে বুঝুন
অনেক সময় সমস্যা কাজের মধ্যে নয়, বোঝাপড়ার অভাবে। বস যে কাজটি চেয়েছেন, সেটি ঠিক কীভাবে চান তা আগে বুঝে নিন। সন্দেহ থাকলে প্রশ্ন করুন। এতে পরে একই কাজ বারবার বদলানোর ঝামেলাও কমবে।
‘আমি সব জানি’ ভাবটা এড়িয়ে চলুন
অফিসে নতুন কিছু শিখতে গেলে অস্বস্তি হওয়ার কিছু নেই। বরং কেউ কিছু বোঝালে মন দিয়ে শুনুন। বিশেষ করে বস কোনও নতুন পদ্ধতি দেখালে আগ্রহ নিয়ে জানার চেষ্টা করুন। সবজান্তা হওয়ার চেয়ে শেখার ইচ্ছা অনেক বেশি ইতিবাচক বার্তা দেয়।
ভুল হলে লুকিয়ে রাখবেন না
একটা ভুল হয়ে গিয়েছে। সেটা ঢাকতে গিয়ে আরও পাঁচটা ভুল করার চেয়ে সোজাসুজি বিষয়টি জানানো ভালো। অবশ্যই একই ভুল বারবার না করার চেষ্টা করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয় কথার সঙ্গে কাজের মিল থেকেই।
ডেস্কে বসে সারাক্ষণ বাড়ির চিন্তায় ডুবে থাকবেন না
বাড়িতে সমস্যা থাকতেই পারে। কিন্তু অফিসে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যক্তিগত ফোন, পারিবারিক আলোচনা বা ব্যক্তিগত সমস্যায় ডুবে থাকলে কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জরুরি বিষয় সামলে নিয়ে মনটা যতটা সম্ভব কাজে ফেরানোর চেষ্টা করুন।
কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস বদলান
একটা ছোট কাজ আজ করে ফেললে কালকের চাপটা কমে যায়। তাই ‘পরে করব’ করতে করতে কাজ জমিয়ে রাখবেন না। কোন কাজ আগে, কোনটা পরে ছোট্ট একটা তালিকা করেই এগোতে পারেন। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে নিজের চাপও কমবে, বসের বিরক্তির কারণও কমবে।
সবশেষে, আপনার বসকে বুঝুন
সব বস একরকম নন। কেউ কাজের আগে বিস্তারিত আলোচনা করতে পছন্দ করেন, কেউ আবার সরাসরি ফলাফল দেখতে চান। কেউ নিয়মিত আপডেট চান, আবার কেউ নির্দিষ্ট সময়েই রিপোর্ট নিতে স্বচ্ছন্দ। তাই আপনার বসের কাজের ধরনটা বুঝে নিন। সেই অনুযায়ী যোগাযোগ করতে পারলে অযথা ভুল বোঝাবুঝি অনেকটাই কমতে পারে।
তবে একটা কথা মাথায় রাখা জরুরি বসের মন জেতা মানে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেওয়া নয়। তোষামোদ করে সাময়িক সুবিধা মিললেও দীর্ঘদিনের পরিচয় তৈরি হয় আপনার কাজ, সততা আর পেশাদার আচরণে। তাই বসকে খুশি করার চেয়ে এমন একজন কর্মী হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন, যাঁর কাজ দেখেই আলাদা করে প্রশংসা করতে হয় না।


