Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : একজনের প্রশ্ন, অন্যজনের রহস্যময় জবাব আর তাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু নতুন জল্পনা! ভারতের বাজারে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে গিয়ে কেন এত বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে ইলন মাস্ক (Elon Musk) সরাসরি নিশানা করেন মুকেশ আম্বানিকে। আর সেই বিতর্কেই ঘি ঢেলে রাহুল গান্ধী উত্তর দেন, ‘ওয়েলকাম টু ইন্ডিয়া, ইলন। অন্যজনকে চিনলে তবেই বুঝবেন!’ কিন্তু কে সেই ‘অন্যজন’? কার দিকে ইঙ্গিত বিরোধী দলনেতার? সেই জল্পনাতেই এখন উত্তাল সমাজ মাধ্যম।
বিতর্কের সূত্রপাত ইলন মাস্কের (Elon Musk) সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে। সেখানে তিনি দাবি করেন, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে লাইসেন্স পাওয়া স্টারলিঙ্ক ভারতে পরিষেবা চালুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম মেনে চললেও এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। ভারতের সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলার পরেও এই বিলম্বের কারণ নিয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক ভারতে প্রবেশ করলে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে আম্বানি গোষ্ঠীর রিলায়্যান্সের জিও স্যাটেলাইট পরিষেবা। সেই কারণেই স্টারলিঙ্ক অনুমোদন পাচ্ছে না কিনা প্রশ্ন করে একপ্রকার কটাক্ষ করেই ভারতে আম্বানি আসল ক্ষমতাধর ব্যক্তি কিনা তা জানতে চান মাস্ক।
মাস্কের (Elon Musk) পোস্টের জবাবে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘Welcome to India, Elon. Wait till you discover the other guy.’ অর্থাৎ, ‘ভারতে স্বাগত, ইলন। অন্যজনকে চিনলে তবেই বুঝবেন!’ রাহুলের এই মন্তব্যের পরেই মুকেশ আম্বানির প্রসঙ্গে ‘অন্যজন’ বলতে তিনি কাকে বোঝাতে চাইলেন কংগ্রেস নেতা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘অন্যজন’ বলতে গৌতম আদানির দিকে ইঙ্গিত করে থাকতে পারেন কংগ্রেস নেতা। কারণ, আম্বানি ও আদানিকে ঘিরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বারবার সরব হয়েছে কংগ্রেস। যদিও রাহুল তাঁর পোস্টে আদানির নাম স্পষ্ট করে উল্লেখ করেননি, তবে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে গৌতম আদানি এবং মুকেশ আম্বানির যৌথ ছবিতে স্পষ্ট হয়েছে সেই ইঙ্গিত।
তবে স্টারলিঙ্কের লাইসেন্স নিয়ে মাস্কের অভিযোগের জবাবে ইতিমধ্যেই আম্বানিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা উড়িয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং বৈষম্যহীন। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টারলিঙ্ক, জিও স্যাটেলাইট এবং ভারতী-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব তিনটি সংস্থাই নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
‘অন্যজন’ আদানি কি না, তার উত্তর সরাসরি না মিললেও মাস্কের প্রশ্ন আর রাহুলের রহস্যময় জবাব ঘিরে ফের উঠে আসছে ভারতের শিল্পপতি, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং সরকারের সঙ্গে বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সম্পর্ক নিয়ে চলা পুরনো বিতর্ক।


