Aaj lndia Desk, আরামবাগ: ১৯৮৬ সালের পর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সবংয়ে প্লাবন পরিস্থিতি পরিদর্শন | আকাশপথে ঘুরে দেখলেন ঘাটাল-আরামবাগ-সবং | মৃতদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা
১৯৮৬-এর পর সবংয়ে মুখ্যমন্ত্রী
দীর্ঘ ৪০ বছর পর সবংয়ের বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলেন কোনও মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর পর এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী প্লাবিত সবংয়ে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন। ফলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফর ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও দেখা যায় যথেষ্ট আবেগ ও উচ্ছ্বাস।
‘গ্রামের মানুষের সঙ্গে নাড়ির টান’
সবংয়ে গিয়ে নিজের গ্রামের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে জানিয়েছেন, ১৯৮৬ সালে জ্যোতি বসু বন্যার সময় এসেছিলেন। তারপর আর কোনও মুখ্যমন্ত্রী আসেননি। শুভেন্দুর কথায়, “আগের মুখ্যমন্ত্রী গ্রামের মানুষকে মানুষ বলে মনে করতেন না। আর আমার সঙ্গে তো গ্রামের মানুষের নাড়ির টান। গ্রামই আমার শুরু, গ্রামই আমার শেষ।”
হেলিকপ্টারে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন
এদিন হেলিকপ্টারে করে সবংয়ের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত-সহ বিস্তীর্ণ প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটাল, আরামবাগ এবং সবংয়ের পরিস্থিতিও আকাশপথে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। পরে সবং ও আরামবাগে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন।
বন্যায় মৃতদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা
বন্যায় মৃত দুই ব্যক্তির পরিবারকে মোট ৯ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ এবং জেলা তহবিল থেকে ৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও রেশনের আশ্বাস
শুভেন্দু জানান, ৩২০০টি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিককে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি জলবন্দি মানুষের জন্য পাঁচ দিনের রেশন এবং ২০ লিটার করে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে। এই কাজে পুলিশকে প্রয়োজনীয় অর্থও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানেও বড় সিদ্ধান্ত
বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ২৪.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি ব্লকে ১১ হাজার আবাসের কাজ চলছে এবং আরও ১৩ হাজার বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সাপের কামড়ের ১০ ঘটনা
বন্যার জেরে এলাকায় সাপের উপদ্রব নিয়েও তথ্য দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত সাপের কামড়ের ১০টি ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রত্যেক আক্রান্তই জীবিত রয়েছেন। পাশাপাশি প্লাবিত এলাকায় আজ থেকেই শস্যবীমা যোজনার ক্যাম্প করার কথাও জানান তিনি।
‘মানুষের পাশে রয়েছে সরকার’
নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতেও সবংয়ের বন্যা পরিস্থিতির ছবি প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রবল বৃষ্টিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পানীয় জল, ত্রাণ এবং প্রশাসনিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। কঠিন সময়ে সরকার সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে বলেও বার্তা দেন তিনি।


