Aaj India Desk, কলকাতা : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অশান্তির পরেই ভাইরাল হয়েছে একটি ছবি। সেই ছবিতে দেখা যায় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের পাশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আহত এক ABVP ‘ছাত্র নেতা’কে। শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা যাওয়া সেই যুবকের নাম নিখিল দাস (Nikhil Das)। কিন্তু কে এই নিখিল ?
২০১৪ সালের ২৮ অগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি উৎসবের দ্বিতীয় দিনে এক আর্টসের ছাত্রীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে যৌন হেনস্তার মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিদের একজন ছিলেন এই নিখিল দাস (Nikhil Das)। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নিখিল দাস এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সোনু কুমারকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। সেইসময় নিখিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সোনু দ্বিতীয় বর্ষের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর দু’জনকে গ্রেপ্তার করে আলিপুর আদালতে তোলা হয়েছিল। আদালত তাঁদের দু’দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছিল। পুলিশের দাবি ছিল, অভিযোগকারিণীর বয়ানের ভিত্তিতে তৈরি স্কেচের সঙ্গে ধৃতদের মিল পাওয়া গিয়েছিল এবং তাঁদের বক্তব্যেও অসঙ্গতি ছিল। আরও তদন্তের কথাও আদালতে জানিয়েছিল পুলিশ। যদিও ধৃতদের আইনজীবীরা সেই সময় তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
বর্তমানে এই নিখিল দাসই (Nikhil Das) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি ইউনিট সভাপতি। গতকাল রাতে অরবিন্দ ভবনে একটি ছাত্র সংসদের সভাকে কেন্দ্র করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে হাতাহাতির সময় তিনি আহত হন বলে জানানো হয়েছে। এমনকি বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়ে বাম নেতাদের বিরুদ্ধে রীতিমত হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তবে অতীতের ঘটনার জেরে উঠে আসছে নানান প্রশ্ন। ২০১৪ সালে তৃতীয় বর্ষে পাঠরত নিখিল দাস ১২ বছর পর কী পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছিলেন, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
অন্যদিকে শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের সাথে তাঁর যোগাযোগ ঘিরেও এখন প্রশ্ন তুলেছেন বাম সমর্থিত ছাত্র নেতারা। নারী নিরাপত্তা বিষয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি সরকার। তবে সেই দলেরই নির্বাচিত বিধায়ক কীকরে একজন যৌন হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির পাশে দাঁড়ালেন, তাই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। যাদবপুরের অশান্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই তাই পুরনো মামলার তথ্য সামনে আসায় ফের বাড়ছে বিতর্কের রেশ।


