নয়াদিল্লি: স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ‘দিমাগি নকশাল’ (Dimagi Naxal) মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমের কটাক্ষ, ‘দিমাগি নকশাল হতে পেরে আমি গর্বিত।’ অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর দাবি, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে ‘দিমাগি নকশাল’ (Dimagi Naxal) বলেননি। ফলে মোদীর মন্তব্যের অর্থ ও লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা।
লালকেল্লা থেকে কী বলেছিলেন মোদী?
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) বলেন, জঙ্গলে বন্দুক হাতে থাকা নকশালদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য এসেছে। কিন্তু তাঁর দাবি, এখনও এক ধরনের ‘দিমাগি নকশাল’ (Dimagi Naxal) রয়েছে, যারা হিংসা ছড়ানোর সুযোগ খোঁজে এবং সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে। দেশকে নিরাপদ ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে এই ধরনের শক্তিকে চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এই মন্তব্যের পরেই প্রশ্ন ওঠে, ‘দিমাগি নকশাল’ বলতে প্রধানমন্ত্রী ঠিক কাদের বোঝালেন?
চিদম্বরমের একলাইনেই নতুন বিতর্ক
মোদীর মন্তব্যের পর এক্স হ্যান্ডেলে প্রতিক্রিয়া জানান কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম (P Chidambaram)। তিনি লেখেন, ‘দিমাগি নকশাল হতে পেরে আমি গর্বিত।’ চিদম্বরমের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। তিনি কি প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত শব্দটিকে ব্যঙ্গ করে নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন? নাকি তাঁর বক্তব্যের মধ্যে ছিল রাজনৈতিক প্রতিবাদের বার্তা? সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য চিদম্বরমের ওই সংক্ষিপ্ত পোস্টে স্পষ্ট নয়।
‘বিরোধীদের বোঝাননি মোদী’, সাফাই রিজিজু
চিদম্বরমের মন্তব্যের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তাঁর দাবি, মোদী ‘দিমাগি নকশাল’(Dimagi Naxal) বলতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বোঝাননি। রিজিজু নিজের বক্তব্যে এই শব্দটির একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তাঁর দাবি, যারা সংবিধানকে উপেক্ষা করে মাওবাদীদের সমর্থন করে, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়ায়, ৩৭০ ধারার পক্ষে অবস্থান নেয় অথবা ‘চিকেনস নেক’ বন্ধ করে উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করার কথা বলে, তাদের এই অভিধার আওতায় রাখা যায়। তবে এই সংজ্ঞা ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে, রিজিজুর দেওয়া রাজনৈতিক মানদণ্ডে ঠিক কারা পড়ছেন?


