Aaj India Desk, বাঁকুড়া: দিল্লির রাজীব চকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন বাঁকুড়ার ইন্দাসের বাসিন্দা আবদুল হাফিজ (Abdul Hafiz)। সেই আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের মুখেও পড়েছিলেন তিনি। পরে গ্রামে ফিরে সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিজের এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের বেহাল অবস্থার ভিডিও করেন হাফিজ।
অভিযোগ, সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করার পরই তাঁর পরিবারের উপর হামলা হয়। হামলায় হাফিজ এবং তাঁর বৃদ্ধ বাবা গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সিজেপির পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে, তাদের ৩ জন ইতিমধ্যেই গ্রেফতার। বাকিদেরও করা হবে। এখানে বিজেপির কোনও ব্যাপার নেই। এরা সবাই দুষ্কৃতী। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।”
কীভাবে ঘটল ঘটনা?
সিজেপি সূত্রের দাবি, দিল্লির আন্দোলন শেষে বাঁকুড়ার নিজের এলাকায় ফেরেন আবদুল হাফিজ। এরপর ছোটবেলায় পড়াশোনা করা একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে ভিডিও করেন তিনি। সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো নিয়ে সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ওই ভিডিও করা হয়েছিল বলে দলের দাবি।
অভিযোগ, ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দুষ্কৃতী হাফিজের বাড়িতে হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে হাফিজ ও তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাফিজের বাবার মৃত্যু হয়।
বাংলায় আসছে সিজেপির প্রতিনিধি দল
ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের নেতা অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke) সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভালো সরকারি স্কুলের দাবি তোলার কারণেই একজনের প্রাণ গিয়েছে। মৃতের পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছে দল।
সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই দলের একটি প্রতিনিধি দল পশ্চিমবঙ্গে আসবে। বাঁকুড়ার ঘটনার বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা।
সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কাও জানিয়েছেন, তিনি বিজয় মাল্লাঙ্গি, অঙ্কিত ভরদ্বাজ, সুধীর সাঙ্গোয়ান-সহ দলের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বাঁকুড়ার করিসুন্দা গ্রামে যাবেন। একইসঙ্গে হামলা বা হুমকি দিয়ে তাদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না বলেও বার্তা দিয়েছে সিজেপি।


