Aaj lndia Desk,পাটনা: সরকারি বেতন ব্যবস্থার ডিজিটাল পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়েই কি চলছিল আর্থিক অনিয়ম? বিহারের (Bihar) শিক্ষা দফতরে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (Human Resource Management System বা HRMS) পোর্টাল ঘিরে সামনে এসেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত ভাতা যুক্ত করা, অনুমোদন ছাড়াই টাকা পাঠানো এবং সরকারি তহবিলের অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অভ্যন্তরীণ অডিটে নওয়াদা (Nawada), পাটনা (Patna) ও ভাগলপুর (Bhagalpur) এই তিন জেলায় প্রায় ১.৮৫ কোটি টাকার অনিয়মের হদিশ মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই চার সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে বরখাস্তের পদক্ষেপ করা হয়েছে।
৩৮ জেলায় আর্থিক হিসাব খতিয়ে দেখার নির্দেশ
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি (Mithilesh Tiwari) রাজ্যের সমস্ত ৩৮টি জেলায় অডিটের নির্দেশ দিয়েছেন। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পোর্টালের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ারও উদ্যোগ চলছে। মন্ত্রীর বক্তব্য, অনিয়মে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কিংবা কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওয়াদায় বেতনের অঙ্কে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
নওয়াদা (Nawada)-র একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনায় অভিযোগ, ২০২৫ সালের এপ্রিলে এক শিক্ষিকার নির্ধারিত বেতন ছিল ৪৬,৭৭২ টাকা। অথচ পোর্টালে ৪,৫২,২২২ টাকার অনুমোদনহীন ভাতা যুক্ত হওয়ায় তাঁর অ্যাকাউন্টে মোট ৪,৯১,৭৭২ টাকা জমা পড়ে। মে মাসেও অতিরিক্ত ৩,৪৯,৫০০ টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সমগ্র শিক্ষা মিশনের (Samagra Shiksha Mission) তহবিল থেকে ২.৮৬ লক্ষ টাকা সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সব মিলিয়ে শিক্ষিকার অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত ১০,৪৩,৯৫০ টাকা জমা পড়েছিল বলে অডিটে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় শিক্ষিকা, পোর্টালের ‘মেকার’ (Maker) হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্লার্ক এবং ‘চেকার’ (Checker) পদে থাকা হেড ক্লার্কের নাম উঠে এসেছে। গত ১৩ অক্টোবর নওয়াদা টাউন থানায় (Nawada Town Police Station) এফআইআর দায়ের হয়। শিক্ষিকার অ্যাকাউন্ট থেকে সতীশ কুমার (Satish Kumar) নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ টাকা পাঠানোর বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পাটনা ও ভাগলপুরেও অভিযোগের ছায়া
পাটনার (Patna) গুলজারবাগের এফএনএস অ্যাকাডেমি (FNS Academy)-র ক্লার্ক বিজয় কুমার বিদ্যার্থী (Vijay Kumar Vidyarthi)-র বিরুদ্ধে ৭৬,৭১,৯৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। জেলা শিক্ষা আধিকারিকের ‘মেকার লগ-ইন আইডি’ অপব্যবহারের অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
অন্যদিকে, ভাগলপুরে (Bhagalpur) তানশ্রী (Tanshree) নামে এক অস্তিত্বহীন শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে ৯৮,১২,৭৭৩ টাকা পাঠানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনায় জেলা শিক্ষা আধিকারিককেও বরখাস্ত করা হয়েছে। একই জেলায় ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম অফিসার শশী চন্দন চৌধুরী (Shashi Chandan Choudhary)-কে গত ৮ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়। ওই দিনই যোগসার থানায় (Jogasar Police Station) সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়।
ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। সরকারি পোর্টালের নিরাপত্তা ও অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়ায় কোথায় গলদ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি এই অনিয়মের পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


