Aaj India Desk, অমরাবতী: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের (Cyclone Arnab) দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ধরে চলেছে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া। এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। কোথাও গাছ ভেঙে পড়ে, আবার কোথাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মানুষ। বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লি, কাঁকিনাড়া, কোনাসীমা এবং ওয়েস্ট গোদাবরী জেলা থেকে মৃত্যুর খবর মিলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩১টিরও বেশি বাড়ি। প্রশাসন সূত্রে খবর, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে ৭১৪টির বেশি গ্রামে।
অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি ওডিশাতেও ঝড়ের প্রভাব যথেষ্ট উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও শুরু হয়েছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণি-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে চলছে মাইকিং। পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।
বুধবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের ইয়ানাম উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শেষ হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয় ৩৯টি এনডিআরএফ এবং ৮০টি এসডিআরএফ দল। উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে মাঠে রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
ওডিশার পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারির আশঙ্কা, পশ্চিম ওডিশার একাধিক জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মালকানগিরিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ বলে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এনডিআরএফ-সহ অন্যান্য দল।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ওডিশার গজপতি জেলার মোহনা এলাকায় ভেঙে পড়েছে গুন্ডারিগুড়া সেতুর গার্ডওয়াল। এর জেরে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, গোপালপুর উপকূলেও উত্তাল রয়েছে সমুদ্র। সব মিলিয়ে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে দুই রাজ্যেই ক্ষয়ক্ষতি ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে প্রশাসন।


