Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশ চিনের (China) দখলে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিল কংগ্রেস (Congress)। তবে ভারতীয় সেনার বক্তব্য সামনে আসতেই সেই দাবি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে ঘটনাটিকে চিনের দখলদারি বলে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু (Kiren Rijiju)। তাঁর দাবি, ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত কংগ্রেসের।
মঙ্গলবার বিহার কংগ্রেসের মুখপাত্র ঋতু চৌধুরি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেই ভিডিও দেখিয়ে তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চিনের গাড়ি এবং অরুণাচল প্রদেশের একটি অংশ চিন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। কংগ্রেসের আরেক কর্মীও দাবি করেন, ওই এলাকায় মোতায়েন ভারতীয় সেনার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, জওয়ানদের কাছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও চিন বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
কিন্তু এই দাবি খারিজ করে সেনার তরফে জানানো হয়েছে, ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও আসলে ভারত ও চিনের সীমান্তবর্তী বাণিজ্যকেন্দ্রের। সিকিমের নাথু লা পাসের কাছে ওই এলাকায় নিয়ম মেনেই দুই দেশের ব্যবসায়ীরা গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করেন। তাই সেই দৃশ্যকে চিনের ভারতীয় ভূখণ্ড দখলের প্রমাণ হিসেবে দেখানো বিভ্রান্তিকর।
এ ছাড়াও আরও একটি ভিডিও নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সেনা। সেনার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবরের একটি পুরনো ফুটেজ বিকৃত করে নতুনভাবে ছড়ানো হচ্ছে। ওই ফুটেজে জম্মু-কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এক সেনা আধিকারিক। অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওটির পরিবর্তিত রূপ ছড়ানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা অরুণাচল প্রদেশের সাংসদ কিরেণ রিজিজু। তাঁর অভিযোগ, এআই দিয়ে ভিডিও বিকৃত করে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে। রিজিজুর বক্তব্য, এই ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য কংগ্রেসের গোটা দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের কাজ দেশের স্বার্থের বিরোধী। তবে এই অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


