Aaj India Desk, কলকাতা : গতকালই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শেষ হয়েছে। আগামী ২৯ এপ্রিল এই বিধানসভার দ্বিতীয় দফার ভোট। এই ভোটের কাজে দেদার ব্যবহার করা হয়েছে বেসরকারি বাস (Private Bus)। তবে প্রথম দফার ভোট শেষ হলেও এখনোও নির্ধারিত টাকা পাননি বাস মালিকেরা।
ফেব্রুয়ারি থেকেই নির্বাচনের জন্য বেসরকারি বাস (Private Bus) অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে সময় বাস মালিকদের সংগঠন ভাড়া, কর্মীদের খাবার ও অগ্রিম অর্থ নিয়ে পরিবহণ দপ্তর ও নির্বাচন কমিশনের কাছে স্পষ্টতা চেয়েছিল। সংগঠনের অভিযোগ, প্রাথমিক নির্দেশিকা দেওয়া হলেও বাস্তবে অগ্রিম প্রদানে স্পষ্ট গাফিলতি করা হয়েছে।
জেলা ভিত্তিক অর্থ প্রদানে ক্ষোভ
২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের দিনেও উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিপুল সংখ্যক বেসরকারি বাস (Private Bus) ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেই কাজ শেষ হওয়ার পরও কলকাতা, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, রায়গঞ্জ, বালুরঘাট ও মেদিনীপুরে অনেক বাস মালিকের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা জমা পড়েনি। অন্যদিকে, হুগলি ও হাওড়ার কিছু বাস মালিক অগ্রিম পেয়েছেন বলে খবর। এই ভিন্ন অবস্থানেই ক্ষোভ আরও বাড়ছে বলে জানান কলকাতার বেসরকারি বাস সংগঠন। বাস সংগঠনের এক প্রতিনিধির বক্তব্য, “একই রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এই দ্বিচারিতা মেনে নেওয়া যায় না।”
আর্থিক চাপে মালিকরা
বাস ভোটে দেওয়ার ফলে মালিকদের নিজস্ব দৈনিক আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও স্থায়ী খরচ থেমে নেই। চালক ও সহকারীদের বেতন, বাসের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, পারমিট ও ট্যাক্স সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ দিতে হচ্ছে বাস মালিকদেরই।
ব্যাঙ্ক ঋণের কিস্তি বা ইএমআই নিয়েই সবথেকে বেশি চিন্তায় বাস মালিকরা। বহু বাস মালিকই ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন। নিয়মিত কিস্তি না দিলে জরিমানা, সুদ বৃদ্ধি বা ঋণখেলাপির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ফলে অগ্রিম টাকা না পেয়ে অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে বা ধার করে এই খরচ মেটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
ছোট ও মাঝারি বাস মালিকদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। বড় সংস্থার তুলনায় তাদের আর্থিক সঞ্চয় কম থাকায় কয়েকদিন আয় বন্ধ থাকলেই চাপ তীব্র হয়ে ওঠে। অনেকেই জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
ফের বাস জমার নির্দেশ
এর মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের কাজে ফের ২৬ এপ্রিল থেকেই আবার বাস জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এবার বাস মালিকদের স্পষ্ট বার্তা, বকেয়া অগ্রিম দ্রুত মেটাতে হবে। টাকা না মেটালে ভবিষ্যতে নির্বাচনী কাজে যানবাহন সরবরাহে সমস্যা হবে।
প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সমাধান না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।


