Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে টাটা গোষ্ঠীকে ফের শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, রাজ্যে বড় শিল্প ও নতুন বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। টাটাকেও বাংলায় আনা হবে। তবে টাটা গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিনিয়োগ সিঙ্গুরেই হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
শিল্পে জোর দিতে বিশেষ টিম
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দাবি, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিল্প প্রকল্পের প্রস্তাব সরকারের কাছে এসেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখতে শিল্পসচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রস্তাবগুলির বাস্তবতা ও সম্ভাবনা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগের তৃণমুল সরকারের মতো বিজেপি সরকার শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাস্তব বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই নতুন সরকারের লক্ষ্য। বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র—সব ধরনের শিল্পের জন্য কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।
সিঙ্গুর নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
সিঙ্গুরের জমিতে টাটা কারখানা ফের গড়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্বীকার করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই জমিতে শিল্প স্থাপন সহজ নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জমির একটি বড় অংশে পূর্ববর্তী প্রকল্পের প্রভাব রয়েছে এবং জমির চরিত্র বদলে গেছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, টাটাকে বাংলায় ফেরানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা সিঙ্গুরকেন্দ্রিক হয়তো নয়।
কৃষকদের জমিতে কিভাবে হবে শিল্প ?
২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর প্রায় ৯৯৭ একর জমি এবং সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা কৃষকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই জমি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হওয়ায় সরকারের পক্ষে সরাসরি শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ফলে ভবিষ্যতে এখানে কোনও বৃহৎ শিল্প প্রকল্প করতে হলে জমির মালিকদের সম্মতি এবং স্বচ্ছ জমি সংগ্রহ প্রক্রিয়া দরকার।
তাই নতুন শিল্প নীতিতে জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে আলোচনার ভিত্তিতে জমি সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। বাজারদরে জমি ক্রয়, সম্মতিভিত্তিক জমি হস্তান্তর এবং শিল্পবান্ধব অবকাঠামো তৈরির দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সিঙ্গুর এলাকায় ছোট ও মাঝারি শিল্প, লজিস্টিকস বা অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রকল্পের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
উল্লেখ্য, বাংলার সিঙ্গুরে টাটার শিল্প শুরু করার বিরোধিতা করে গঠিত সিঙ্গুর আন্দোলন একসময় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম আমলের অবসান ঘটাতে সিঙ্গুর আন্দোলনের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। সেই আন্দোলনেরই অন্যতম মুখ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় দুই দশক পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁরই তাড়ানো টাটা গোষ্ঠীকে বাংলায় ফেরানোর আহ্বান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


