কলকাতা: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো (Durga Puja) ২০২১ সালে ইউনেস্কোর (UNESCO) ‘ইনট্যাঙ্গিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি পাওয়ার পর তৎকালীন তৃণমূল সরকার একে বিশ্বের বৃহত্তম পাবলিক আর্ট ফেস্টিভ্যাল বা শিল্প উৎসব হিসেবে বারবার প্রচার করেছে। আর কলকাতার বড় বড় পুজো ক্লাবগুলির হোতারা ছিলেন মমতারই আস্থাভাজন নেতা-মন্ত্রী। ছাব্বিশের পালাবদলে মমতার ক্ষমতা যেতেই তাঁদের এক এক করে জেলে ভরা চলছে। গুটিকয়েক যারা বাইরে আছেন তাঁদের উপরেও ঝুলছে পুলিশ, সিআইডির খাঁড়া।
প্রতিবছর দুর্গাপুজোর ক্লাবগুলোকে মোটা অংকের অনুদান দিত প্রাক্তন তৃণমূল সরকার। গত বছর সেই টাকার অঙ্ক আরও বাড়ানো হয়। এবার ক্ষমতার পালাবদল হতেই অনেকেরই আশঙ্কা, তাহলে কি এবারের পুজোর (Durga Puja) রোশনাই ফিকে হয়ে যাবে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন চলছে, মমতা-রাজের পুজোর অনুদানের পরম্পরা কি বন্ধ করে দেবে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার?
শুক্রবার এই বিষয়েই বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, যেসব পুজো কমিটির সরকারি অনুদানের প্রয়োজন নেই, তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। তবে আর্থিক সংকটে থাকা পুজো কমিটিগুলির পাশে সরকার থাকবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি বিজেপি সূত্রে খবর, ক্লাবগুলিকে সরাসরি সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রথা বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে চলতি বছর রাজ্যের পুজো কমিটিগুলি অনুদান পাবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, অনুদান নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও দুর্গাপুজোর (Durga Puja) জাঁকজমকে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না বিজেপি সরকার। সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোকে বিশেষভাবে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকে কলকাতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী অষ্টমীর অঞ্জলিতে অংশ নিতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রাথমিক স্তরে আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।


