কলকাতা: বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর (Bageshwar Baba)! এর আগে বাংলায় এসে বাঙালিদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। আর এবার রাম ও কৃষ্ণের তুলনা টানতে গিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন বাগেশ্বর বাবা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর একটি ভিডিও ক্লিপ। আর সেই ভিডিও ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। প্রশ্ন উঠছে, ভগবান রাম ও শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে এমন তুলনা টানার প্রয়োজন হল কেন?
ভাইরাল ভিডিওতে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে (Bageshwar Baba) বলতে শোনা যায়, শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি ও ছবিতে তাঁকে তিন জায়গায় বাঁকা ভঙ্গিতে দেখা যায়, পা, কোমর এবং ঘাড়। সেই ভঙ্গিতেই তিনি বাঁশি বাজান। অন্যদিকে, রামের ভঙ্গি সোজা। তিনি সোজা দাঁড়ান, হাঁটেন এবং হাতে ধনুক ধরেন। বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে রাম ও কৃষ্ণের ভঙ্গির পার্থক্য তুলে ধরেন ধীরেন্দ্র। এমনকী, কারা রামভক্ত, তা জানতে হাত তুলে সমর্থন জানাতেও বলেন। তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই আপত্তি জানান নেটিজেনদের একাংশ।
এবার এই বিতর্কে সরব তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও। তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, শ্রীকৃষ্ণকে এভাবে অপমান করার অধিকার ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে (Bageshwar Baba) কে দিয়েছে? শুধু তাই নয়, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত বা ঈশ্বরকে অপমানের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হবে না কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন কুণাল।
এখানেই শেষ নয়। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর (Bageshwar Baba) পুরনো বিতর্কও ফিরিয়ে এনেছেন কুণাল। এর আগে দুর্গাপুজোর সময় বাংলায় এসে বাঙালিদের আমিষ খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন বাগেশ্বর বাবা। বাঙালিদের খাদ্যাভ্যাসের সমালোচনা করে নিরামিষ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই মন্তব্য ঘিরে তখনও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই কুণালের কটাক্ষ, আগে বাঙালিদের কটূক্তি, এবার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত! তাঁর প্রশ্ন, এবারও কি কোনও আইনি পদক্ষেপ হবে না?
তবে বিতর্ক বাড়তেই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে সুর নরম করেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী (Bageshwar Baba)। ক্ষমা চেয়ে তিনি জানান, তিনি নিজেও শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত। কৃষ্ণের গুণগান করেন, তাঁকে অপমান করার কোনও প্রশ্নই নেই। রাম ও কৃষ্ণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করাও তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বাঁশি নিয়ে প্রচলিত একটি কথার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মজার ছলে উপমা দিয়েছিলেন মাত্র। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের অর্থ অনেকেই ভুল বুঝেছেন বলে দাবি ধীরেন্দ্রর।
তাঁর আরও বক্তব্য, রাম ও কৃষ্ণ আসলে একই। তাঁদের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই, সেই কথাই বোঝাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহলে।
একদিকে কুণাল ঘোষের আইনি পদক্ষেপের প্রশ্ন, অন্যদিকে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ক্ষমা ও ব্যাখ্যা, সব মিলিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রে বাগেশ্বর বাবা (Bageshwar Baba)। প্রশ্ন একটাই, এটি কি নিছকই ভুল ব্যাখ্যা করা একটি মন্তব্য, নাকি ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে আরও সংযমের প্রয়োজন? বিতর্ক এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর।


