Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পরেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল তৃনমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে একের পর এক বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন শিবিরে যোগ দেন। তবে হালিশহরের ঘটনার পরেই এতদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে থাকা বলে পরিচিত তিন বিধায়ক সোমবার প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন জানান। তাঁদের অবস্থান বদলের পরই প্রশ্ন উঠেছে, তবে ঋতব্রত শিবিরেও কি ধীরে ধীরে ভাঙন ধরছে? (TMC Rift)
বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথা জানান। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস, জোড়াফুল প্রতীক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। মমতার ছবি না থাকলে তিনি নির্বাচনে ১০টি ভোটও পেতেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তৌসিফুরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ই তাঁর একমাত্র নেত্রী। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই মমতার বাড়িতে গিয়ে তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। একই দিনে মমতার প্রতি সমর্থন জানান বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দার এবং মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আবদুল খালেক মোল্লা। (TMC Rift)
হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যজুড়ে কর্মসূচি নেয় কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও বিক্ষোভ হয়। হাজরা মোড়ে কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। কয়েকটি জায়গা থেকে কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়। এই কর্মসূচিতেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং পুলক রায়ের সঙ্গে দেখা যায় তৌসিফুর রহমান, বিভাস সর্দার ও আবদুল খালেক মোল্লাকে। এরপর তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও দাবি করেন, শুধু এই তিন বিধায়কই নন, আরও ২৩-২৪ জন বিধায়ক ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তাদের তৃনমূল শিবিরে ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন। (TMC Rift)
অন্যদিকে কুণালের এই দাবি উড়িয়ে পাল্টা জবাব দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, বিভাস সর্দার এবং তৌসিফুর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থানের দায় তিনি নেবেন না। কিন্তু আবদুল খালেক মোল্লা এখনও তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁদের শিবিরে এখনও ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।


