কলকাতা: গোড়ায় মুর্শিদাবাদের ৩ সাংসদ, ইউসুফ-আবু-খালিলুরকে নিয়ে জল্পনা হলেও আখেরে ঋতব্রতর (Ritabrata camp) ৬৫-তে কাঁটা হয়ে উঠলেন অন্য ৩ বিধায়ক! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে থাকা তিন বিধায়ককে মমতাপন্থী নেতাদের পাশে দেখা যেতেই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ৬৫-এর অঙ্ক কি আদৌ এতটা নির্ভেজাল?
বীজপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, কাদা ও জুতো ছোড়ার অভিযোগের পরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মমতাপন্থী নেতারা ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন। আর সেই প্রতিবাদের মিছিলে বা অবস্থানে দেখা যায় ঋতব্রত শিবিরের (Ritabrata camp) তিন বিধায়ক, বসিরহাটের তৌসিফ রহমান, মেটিয়াবুরুজের আব্দুল খালেক মোল্লা এবং বারুইপুর পূর্বের বিভাস সর্দারকে।
ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, বিধানসভায় সংখ্যার বিচারে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। কিন্তু সেই শিবিরেরই একাধিক বিধায়ককে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ায় সেই দাবির ভিত কতটা শক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অবশ্য বিষয়টি নিয়ে সাফাই দিয়েছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, “বিভাস সর্দার ও তৌসিফের দায়িত্ব আমি নিতে পারব না।” তবে আব্দুল খালেক মোল্লা দৃঢ়ভাবে তাঁর সঙ্গেই রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। একইসঙ্গে ৬৫ জন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বলেও ফের জোর দিয়ে জানান বিরোধী দলনেতা। প্রয়োজনে স্পিকার ডাকলে ৬৫ জনই হাজির হয়ে যাবেন বলেও দাবি তাঁর।
অন্যদিকে, তৌসিফ রহমানের বক্তব্যে জল্পনা আরও বাড়ে। তিনি বলেন, “দিদি যেখানে, তৌসিফুর রহমান সেখানে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছাড়া ১০টা ভোটও পাব না।” ফলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আর কোনও ধোঁয়াশা রাখতে চাননি বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই আবহেই তৌসিফ রহমানকে সরাসরি নিশানা করে দুর্নীতি ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঋতব্রতের কটাক্ষ, “তৌসিফ প্যারাট্রুপার হয়ে নামা প্রার্থী। ওঁকে প্রশ্ন করুন, বসিরহাটের বিধায়ক টিকিট পেলেন না কেন? তৌসিফ ভাল করে বাংলা বলতে পারেন না, টিকিট পেলেন কীভাবে, বিদেশে কীসের ব্যবসা আছে?” বলা বাহুল্য, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে। ঋতব্রত শিবিরের (Ritabrata camp) সঙ্গে থাকা সাংসদদের একাংশ ইতিমধ্যেই আলাদা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে গিয়েছেন। তার মধ্যেই বিধায়কদের একাংশের প্রকাশ্যে মমতার পাশে দাঁড়ানো নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
তবে তিন বিধায়কই আনুষ্ঠানিকভাবে ঋতব্রত শিবির ছেড়েছেন কি না, তা এই মুহূর্তে স্পষ্ট নয়। তাই তাঁদের প্রতিবাদে অংশ নেওয়াকেই সরাসরি শিবির (Ritabrata camp) বদলের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু রাজনৈতিক বার্তার দিক থেকে ঘটনাটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।


