Aaj India Desk, কলকাতা : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এই কাজ সম্ভব কেবলমাত্র সিজেপি সংগঠনের মাধ্যমেই।
শনিবার এক সাক্ষাৎকারে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর ক্ষেত্রে CJP-এর আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর কথায়, “আমরা নিঃসন্দেহে চেষ্টা করব, কিন্তু তার ফল কী হবে আমি জানি না। কিন্তু CJP যদি করে, দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। আমি জানি ওরা পারবে।” কল্যাণের বক্তব্য, CJP একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করছে। রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে একই ইস্যুতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলির সামনে একাধিক রাজনৈতিক লক্ষ্য ও স্বার্থ থাকে।
এদিন কল্যাণ (Kalyan Banerjee) আরও বলেন, “আমাদের তো অর্ধেক রাজনীতিবিদ বিক্রি হয়ে গেছে।” বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলবদলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এর আগে মার্চে তৃণমূলের নেতৃত্বে বিরোধীরা সংসদের দুই কক্ষেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছিল।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে একাধিক বিরোধী দল ও সংগঠন। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়েও বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। এর মধ্যেই CJP এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সৌরভ দাস ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছে। দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। গত এপ্রিল মাসে নিট পেপার ফাঁস ইস্যুতে তাদের আন্দোলনের মাধ্যমেই পদত্যাগ করতে হয়েছিল তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। এখন নজর CJP-এর আন্দোলন এবং বিরোধীদের আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকে। এই চাপ শেষ পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমারকেও পদত্যাগে বাধ্য করে কিনা, সেটাই এখন দেখার।


