Aaj India Desk, কলকাতা : লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার আবহে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা। দলীয় সূত্রে দাবি, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, জুন মালিয়ার পর এবার যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ (Sayani Ghosh) ও পৃথক ব্লক গঠনের প্রক্রিয়ায় সামিল হতে পারেন। সেই ব্লক সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন জানাতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তৃণমূলের একাংশের সাংসদরা ইতিমধ্যেই পৃথক ব্লক তৈরি করেছেন। সেই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই প্রস্তাবিত ব্লকের মুখ্য সচেতক হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, তিনিই স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক ব্লক গঠনের আবেদন জানাবেন। সংসদীয় বিধি মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
এর মধ্যেই মমতা ও অভিষেকের বিশ্বস্ত সৈনিক এবং লোকসভায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব মুখ হিসেবে পরিচিত সায়নী ঘোষের (Sayani Ghosh) নাম এই সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে উঠে আসায় রাজনৈতিক চর্চা আরও বেড়েছে। যদিও এই বিষয়ে সায়নী ঘোষ বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সূত্র অনুযায়ী, আজকেই তিনি স্পিকারের কাছে দেওয়া চিঠিতে সই করতে পারেন। প্রথম দিকে তাঁকে নিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের আপত্তি থাকলেও পরে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, অভিনয় জগত থেকে রাজনীতির ময়দানে এসে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছেন সায়নী ঘোষ (Sayani Ghosh)। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরই তাঁকে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন, তবুও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর প্রতি আস্থা বজায় রাখে। এরপর তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতেও নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। বর্তমানে সাংসদ এবং যুব তৃণমূলের সভানেত্রী হিসেবে তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে বিবেচিত হন। এহেন দাপুটে নেত্রীও দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে তৃনমূলের অভ্যন্তরের বড় ধস নামবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


