31 C
Kolkata
Saturday, August 22, 2026
spot_img

যাদবপুরের সংঘর্ষে উস্কানি দিয়েছিলেন প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য? CCTV ফুটেজ ঘিরে উঠছে প্রশ্ন

Aaj India Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) খতিয়ে দেখে কারা অশান্তিতে উস্কানি দিয়েছিল, তা চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই ফুটেজে গণিত বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউকে (Buddhadeb Sau) দেখা যাওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের কাছে ছিলেন বুদ্ধদেব সাউ। তাঁর কাছেই এবিভিপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্যকেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ফুটেজ সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, ওই রাতে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের ঢোকানো বা সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে কারও পরিকল্পিত ভূমিকা ছিল কি না। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে পুলিশের কাছে এফআইআর করা হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।

বুদ্ধদেব সাউ অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন এলাকাতেই থাকেন। তাই বৃহস্পতিবার রাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে কী ঘটেছে তা জানতে তিনি নিচে এসেছিলেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনও পক্ষের হয়ে সেখানে দাঁড়াননি। বরং সামনে যাঁদের পেয়েছেন, তাঁদেরই ঝামেলা থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।

তবে তাঁর এই বক্তব্য নিয়ে সন্তুষ্ট নন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষক। জুটা-সহ শিক্ষক প্রতিনিধিদের একাংশের অভিযোগ, বুদ্ধদেব সাউকে শুধুমাত্র ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। তাঁদের দাবি, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে তিনি কোনওভাবে উস্কানি দিয়েছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার। সেই কারণেই তাঁরা নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এই বিতর্কের মধ্যেই যাদবপুরের সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। বুধবার রাতে ফেটসুর সাধারণ সভা বা জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে অরবিন্দ ভবনে প্রথম উত্তেজনা ছড়ায়। বামপন্থী ছাত্রদের অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীন এবিভিপির সদস্যরা সেখানে ঢুকে তাঁদের উপর হামলা চালান। যদিও এবিভিপির দাবি, জিবি মিটিংয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর বামপন্থী ছাত্ররাই তাঁদের উপর হামলা করে।

দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের পাল্টা মিছিলকে কেন্দ্র করে ৪ নম্বর গেটের সামনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ‘আজাদি’ স্লোগান ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন