Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ইন্ডিয়া জোটের (India Alliance) বিক্ষোভকে ঘিরে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। প্রায় আট ঘণ্টা ধরে ধরনায় বসে থাকার পর রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ কংগ্রেসের (Congress) একাধিক নেতাকে আটক করে পুলিশ। দ্বিতীয়বারের জন্য আটক করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও।
মঙ্গলবার সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল ইন্ডিয়া জোট। শুরু থেকেই পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। মাঝপথে পুলিশ তাঁদের আটকে দিলে ব্যারিকেডের উপর উঠে লাউডস্পিকার হাতে প্রতিবাদ করেন রাহুল গান্ধী। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র-সহ কয়েকজন সাংসদকে আটক করা হয়।
এরপর ঘুরপথে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন রাহুল। পরে তিনি চলে যান আকাশবাণী ভবনের সামনে। সেখানেই ধরনায় বসে পড়েন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা-সহ কংগ্রেস নেতারা। ভবনের ভিতরে তাঁদের বসতে দেওয়া হয়নি। ফলে গাছের নীচেই অবস্থান শুরু করেন তাঁরা।
রাতের দিকে সেখানে পৌঁছন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ আরও কয়েকজন নেতা। তাঁরাও ধরনায় যোগ দেন। এর মধ্যেই লখনউ যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরের পথে ছিলেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। খবর পেয়ে তিনিও মাঝপথ থেকে ফিরে এসে বিক্ষোভে যোগ দেন।
এরপর রাত ৮টা নাগাদ আকাশবাণী ভবন চত্বরে পুলিশের গাড়ি ও বাস ঢুকতে শুরু করে। একে একে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ অন্যান্য নেতাদের পুলিশ গাড়িতে তোলে। এর আগে মঙ্গলবার সকালেও নির্বাচন কমিশন অভিযানের সময় ডেরেককে আটক করেছিল পুলিশ। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এই বিক্ষোভ ও ধরনা নিয়ে অন্য একটি প্রশ্নও উঠেছে। বিরোধীদের পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করার কোনও আগাম কর্মসূচি ছিল না বলেই জানা যাচ্ছে। কমিশনের কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার জন্য কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্টও চাওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
এমনকী ইন্ডিয়া জোটের কয়েকজন শরিক নেতার কাছেও রাহুল গান্ধী আচমকা আকাশবাণী ভবনের ভিতরে ধরনায় বসবেন—এমন কোনও আগাম খবর ছিল না। ফলে অনেক সাংসদই কর্মসূচি শেষ না করেই ফিরে যান। নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার জন্য কমিশনের কাছে কোনও সরকারি আবেদনও জমা দেওয়া হয়নি।


