Aaj India Desk, কলকাতা: স্কুল বন্ধের আগে চাকরি হারানো শিক্ষকদের জন্য বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের (Durgapur Steel Plant) অধীনে থাকা স্কুলগুলির ছাঁটাই হওয়া শিক্ষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ৪৫ দিনের মধ্যে ৬ শতাংশ সুদ-সহ ক্ষতিপূরণ মেটাতে হবে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষকে। এই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ।
একসময় দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের অধীনে দুর্গাপুর ইস্পাত হাইস্কুল, শিবাজী রোড ডিএসপি বয়েজ হাইস্কুল-সহ বেশ কয়েকটি স্কুল চলত। এর মধ্যে কিছু স্কুল ছিল সিবিএসই অনুমোদিত, আবার কিছু স্কুল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অনুমোদনপ্রাপ্ত। বাংলা ছাড়াও হিন্দি ও ইংরেজি মাধ্যমেও পড়াশোনার সুযোগ ছিল সেখানে।
প্রায় ৫৬ বছর আগে এই স্কুলগুলির যাত্রা শুরু হয়। ২০০৯ সালে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে পার্শ্বশিক্ষক নিয়োগ করা হয়। একটা সময় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ৪৫ জন শিক্ষক এই স্কুলগুলিতে কাজ করতেন। শুরুতে দৈনিক ১৫০ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়।
এরপর ধাপে ধাপে ১৬ জন শিক্ষককে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চাকরি হারানোর পর তাঁরা প্রথমে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (CAT)-এর দ্বারস্থ হন। তবে ২০২৫ সালে CAT তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেয়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন ওই শিক্ষকরা। মামলার শুনানির পর হাইকোর্ট জানায়, চাকরি হারানো শিক্ষকদের প্রতি বছর ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষকে। সেই টাকার সঙ্গে ৬ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে।
মামলাকারীদের আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় জানান, ২০১৫ সালে স্কুলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার আগেই বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের ছাঁটাই শুরু হয়েছিল। তাই যে শিক্ষক যত বছর স্কুলে কাজ করেছেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত সেই সময়ের হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৪৫ দিনের মধ্যে এই টাকা মেটাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ না দিলে আরও ৬ শতাংশ হারে অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।


