Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) যত দ্রুত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে এর সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে উদ্বেগ। এবার সেই আশঙ্কার কথা আরও জোরালোভাবে জানালেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস (Bill Gates)। তাঁর মতে, AI শুধু কাজের ধরনই বদলাবে না, ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানেও (Job) বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মানবজীবনের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এক সাক্ষাৎকারে গেটস বলেন, AI-এর উন্নতির গতি এতটাই দ্রুত যে সরকার এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে এখনই বিষয়টি নিয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। তাঁর দাবি, AI নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে। ফলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলিকে প্রকাশ্যে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইছেন না।
গেটসের মতে, যাঁরা AI-এর বর্তমান ক্ষমতা এবং এর দ্রুত উন্নতির বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে যথেষ্ট চিন্তিত। কিন্তু প্রকাশ্যে সেই উদ্বেগের কথা বলতে অনেক প্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষকর্তা পিছিয়ে যাচ্ছেন। কারণ, এতে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বা বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
AI-এর উন্নতি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন গেটস। বিশেষ করে AI-ভিত্তিক কোডিং প্রযুক্তির অগ্রগতি তাঁকে অবাক করেছে। কোডিং তাঁর পরিচিত ক্ষেত্রগুলির অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমানে কিছু AI টুলের ক্ষমতা তাঁকে যথেষ্ট চমকে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
গেটসের মতে, অতীতে নতুন প্রযুক্তি কিছু চাকরি কমিয়ে দিলেও সময়ের সঙ্গে নতুন ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। কিন্তু AI-এর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। কারণ, এবার একই সময়ে একাধিক শিল্পে মানুষের কাজের জায়গা AI দখল করে নিতে পারে। ফলে চাকরি হারানো মানুষদের অন্য ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ দেওয়াও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এই পরিস্থিতি সামলাতে AI ব্যবহারের উপর বিশেষ কর বসানোর প্রস্তাব দিয়েছেন গেটস। তাঁর মতে, কোনও সংস্থা যদি AI ব্যবহার করে মানুষের কাজের জায়গা কমিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উপর অতিরিক্ত কর চাপানো যেতে পারে। সেই অর্থ চাকরি হারানো কর্মীদের প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন বা অন্যান্য সহায়তায় ব্যবহার করা সম্ভব।
শুধু কর নয়, কিছু পেশাকে মানুষের জন্য নির্দিষ্ট রাখার কথাও বলেছেন তিনি। অর্থাৎ, এমন কিছু কাজ থাকতে পারে যেখানে AI ব্যবহার করে মানুষের কর্মসংস্থান পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া যাবে না। পরিচর্যা বা মানুষের দেখভালের মতো পেশা এই তালিকায় থাকতে পারে বলে মনে করেন গেটস।
তবে তাঁর উদ্বেগ শুধু চাকরি হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আরও উন্নত AI ভবিষ্যতে এমন কাজেও ব্যবহার হতে পারে, যা মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে নতুন অণু তৈরি বা জৈবিক অস্ত্র তৈরির মতো ক্ষেত্রে AI-এর অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ধরনের শক্তিশালী AI ব্যবস্থার উপর বাধ্যতামূলক নজরদারি ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বিল গেটস। তাঁর মতে, AI-এর ভালো দিকগুলি মানুষের কাজে লাগানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য বিপদগুলিকেও এখন থেকেই গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করা জরুরি।


